ডেস্ক রিপোর্ট:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর–২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নীর মনোনয়নকে ঘিরে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকা ঋণখেলাপের অভিযোগ, অর্থঋণ আদালতে চলমান মামলা এবং মনোনয়ন বাতিল চেয়ে করা আপিল—সব মিলিয়ে তাঁর নির্বাচনী ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাবিরা নাজমুল মুন্নীর মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে এবং এখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া পিএলসি সাবিরা নাজমুল মুন্নীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপের অভিযোগ এনে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের কিস্তি ও বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় তারা আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। ব্যাংকের দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকা।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকার অর্থঋণ আদালত নং–২-এ দায়ের করা মামলায় আদালত ইতোমধ্যে সমন জারি করেছেন। মামলায় সাবিরা নাজমুল মুন্নীর পাশাপাশি তাঁর তিন সন্তানকেও বিবাদী করা হয়েছে। আদালতের কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে, মামলায় দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকা। বড় অঙ্কের এই ঋণ ও মামলার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে যশোর–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল দায়ের করে অভিযোগ করেছেন, সাবিরা নাজমুল মুন্নী তাঁর হলফনামায় ঋণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য গোপন করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদ ও দায়-দেনার সঠিক তথ্য না দিলে তা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাতিলযোগ্য হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপের অভিযোগ এবং অর্থঋণ আদালতে চলমান মামলা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইন অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশনের জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে ঋণের অঙ্ক, আদালতের মামলা এবং আপিলের চাপ—এই তিনমুখী সংকটে যশোর–২ আসনে বিএনপির প্রার্থিতা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় ভোটার, রাজনৈতিক কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট মহল। কমিশনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, সাবিরা নাজমুল মুন্নী শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকতে পারবেন কি না।
০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম:
ঋণখেলাপ, অর্থঋণ আদালতের মামলা ও আপিলের চাপে যশোর–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নীর মনোনয়ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৮:১৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- ৫০৯
সর্বাধিক পঠিত





















