১০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

কার্যকর হলো তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ: ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, বাড়বে জেল-জরিমানা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫১

ঢাকা: দেশে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব রুখতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। এই আইন অনুযায়ী এখন থেকে দেশে ই-সিগারেট ও ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জরিমানা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো (HTP) এবং নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
পাবলিক প্লেসে কঠোর বিধিনিষেধ
পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনের সংজ্ঞা আরও প্রসারিত করা হয়েছে। এখন থেকে এসব স্থানে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করলে জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা
তামাক কোম্পানিগুলোর প্রচারণার সব পথ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
* ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ।
* বিক্রয়স্থলে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন করা যাবে না।
* সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের নামে কোনো তামাক কোম্পানির নাম, লোগো ব্যবহার বা আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ।
প্যাকেজিং ও উৎপাদন সংক্রান্ত পরিবর্তন
* তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ স্থানে রঙিন ছবিসহ সচিত্র সতর্কবাণী দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
* কুম্ভি পাতা বা টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে বাতিল করা হয়েছে ১৯৭৫ সালের পৃথক বিড়ি উৎপাদন অধ্যাদেশ।
* তামাকজাত দ্রব্যে অন্য কোনো আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো এখন থেকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এসব অপরাধের বিচার ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

নড়াইলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে : পিস্তল ও ৮০০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৪

কার্যকর হলো তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ: ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, বাড়বে জেল-জরিমানা

আপডেট: ০৪:১৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা: দেশে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব রুখতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। এই আইন অনুযায়ী এখন থেকে দেশে ই-সিগারেট ও ভ্যাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জরিমানা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো (HTP) এবং নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
পাবলিক প্লেসে কঠোর বিধিনিষেধ
পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনের সংজ্ঞা আরও প্রসারিত করা হয়েছে। এখন থেকে এসব স্থানে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করলে জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা
তামাক কোম্পানিগুলোর প্রচারণার সব পথ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
* ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ।
* বিক্রয়স্থলে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন করা যাবে না।
* সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের নামে কোনো তামাক কোম্পানির নাম, লোগো ব্যবহার বা আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ।
প্যাকেজিং ও উৎপাদন সংক্রান্ত পরিবর্তন
* তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ স্থানে রঙিন ছবিসহ সচিত্র সতর্কবাণী দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
* কুম্ভি পাতা বা টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে বাতিল করা হয়েছে ১৯৭৫ সালের পৃথক বিড়ি উৎপাদন অধ্যাদেশ।
* তামাকজাত দ্রব্যে অন্য কোনো আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো এখন থেকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এসব অপরাধের বিচার ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।