আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এক অভাবনীয় মোড় নিয়েছে সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন গুঞ্জনের মধ্যেই রিয়াদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য তারা নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আরব দেশগুলোর চাপ
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের নেতৃত্বে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তেহরানে হামলার বিরুদ্ধে জোর লবিং বা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এই দেশগুলো প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও, নেপথ্যে তারা কোনো সামরিক সংঘাতের পক্ষে নেই।
সৌদি আরবের সরাসরি বার্তা
বার্তা সংস্থা এএফপি সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রিয়াদ সরাসরি তেহরানকে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপের অংশ হবে না। ওয়াশিংটন সরাসরি হামলার হুমকি দিলেও সৌদি আরবের মাটি বা আকাশপথ হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না—এটি এখন রিয়াদের চূড়ান্ত অবস্থান।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নিকুণ্ডে রূপ নিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে সামরিক হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ির জন্য ইরানকে ‘বড় মূল্য’ দিতে হবে। তিনি সরাসরি সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মীদের এবং নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষণ: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরবের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়ানোর একটি বড় প্রচেষ্টা। অতীতে ইরানের সঙ্গে চরম বৈরিতা থাকলেও বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে রিয়াদ আর কোনো যুদ্ধের ময়দান হতে চাইছে না




















