১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বেনাপোল কাস্টমসে ঘুস বাণিজ্যের মহোৎসব: পচনশীল পণ্যে শুল্কফাঁকি চরমে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৮৩

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কোনোভাবেই থামছে না ঘুস বাণিজ্য। নব্য কৌশলে ঘুস আদায়ে মেতে উঠেছেন কাস্টমস হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এর কর্মকর্তারা। বিশেষ করে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল এই গ্রুপে যোগদানের পর থেকে ট্রাক প্রতি নির্ধারিত হারে ঘুস আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা এবং পচনশীল পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরির মাধ্যমে জিম্মি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এ প্রতিটি পচনশীল পণ্যের ট্রাকের জন্য আলাদা ঘুসের হার নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে:আঙ্গুর: ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আপেল ও কমলা: ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। আনার ও মাছ: ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। পান: ১০ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুসের লেনদেন হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা তোয়াক্কা করছেন না এই কর্মকর্তা। আমদানিকারকদের দাবি, গত এক মাসে কেবল ঘুস বাণিজ্য থেকেই প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল তার ঢাকার এক ফল ব্যবসায়ী আত্মীয়ের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার নিজস্ব প্রতিনিধি ‘তৌহিদ’ ও ‘শুভ’র মাধ্যমে কাঁচামালের মাঠ থেকে সরাসরি ঘুসের টাকা তোলা হয়। অভিযোগ আছে, যারা চুক্তিতে কাজ করছেন, তাদের পণ্য পরীক্ষণ ছাড়াই খালাস দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সৎ ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন।
ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ ও বন্দর পরিবর্তনের হুমকি
আমদানিকারক সরাফত ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ৮ বছর ধরে পান আমদানি করছি, কিন্তু এমন হয়রানি আগে দেখিনি। গাড়ি প্রতি ১০ হাজার টাকা না দিলে পরীক্ষণ রিপোর্টে স্বাক্ষর মেলে না।”
অনেক সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি জানান, বেনাপোলের এই চরম অব্যবস্থাপনা ও ঘুস বাণিজ্যের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে আমদানিকারকরা এখন সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে ঐতিহ্যবাহী বেনাপোল বন্দর ব্যবসায়িক গুরুত্ব হারাচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে কাঁচামাল পরীক্ষণে কোনো শুল্কফাঁকি বা অবৈধ পণ্য আটক হয়নি। এর মূল কারণ হচ্ছে ‘নামমাত্র পরীক্ষণ’। ঘুস নিয়ে পণ্য ছেড়ে দেওয়ার কারণে অবৈধ চোরাচালানও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এই ঘুস সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

নড়াইলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে : পিস্তল ও ৮০০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৪

বেনাপোল কাস্টমসে ঘুস বাণিজ্যের মহোৎসব: পচনশীল পণ্যে শুল্কফাঁকি চরমে

আপডেট: ০৪:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কোনোভাবেই থামছে না ঘুস বাণিজ্য। নব্য কৌশলে ঘুস আদায়ে মেতে উঠেছেন কাস্টমস হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এর কর্মকর্তারা। বিশেষ করে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল এই গ্রুপে যোগদানের পর থেকে ট্রাক প্রতি নির্ধারিত হারে ঘুস আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা এবং পচনশীল পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরির মাধ্যমে জিম্মি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এ প্রতিটি পচনশীল পণ্যের ট্রাকের জন্য আলাদা ঘুসের হার নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে:আঙ্গুর: ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আপেল ও কমলা: ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। আনার ও মাছ: ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। পান: ১০ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুসের লেনদেন হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা তোয়াক্কা করছেন না এই কর্মকর্তা। আমদানিকারকদের দাবি, গত এক মাসে কেবল ঘুস বাণিজ্য থেকেই প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল তার ঢাকার এক ফল ব্যবসায়ী আত্মীয়ের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার নিজস্ব প্রতিনিধি ‘তৌহিদ’ ও ‘শুভ’র মাধ্যমে কাঁচামালের মাঠ থেকে সরাসরি ঘুসের টাকা তোলা হয়। অভিযোগ আছে, যারা চুক্তিতে কাজ করছেন, তাদের পণ্য পরীক্ষণ ছাড়াই খালাস দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সৎ ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন।
ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ ও বন্দর পরিবর্তনের হুমকি
আমদানিকারক সরাফত ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ৮ বছর ধরে পান আমদানি করছি, কিন্তু এমন হয়রানি আগে দেখিনি। গাড়ি প্রতি ১০ হাজার টাকা না দিলে পরীক্ষণ রিপোর্টে স্বাক্ষর মেলে না।”
অনেক সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি জানান, বেনাপোলের এই চরম অব্যবস্থাপনা ও ঘুস বাণিজ্যের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে আমদানিকারকরা এখন সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে ঐতিহ্যবাহী বেনাপোল বন্দর ব্যবসায়িক গুরুত্ব হারাচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে কাঁচামাল পরীক্ষণে কোনো শুল্কফাঁকি বা অবৈধ পণ্য আটক হয়নি। এর মূল কারণ হচ্ছে ‘নামমাত্র পরীক্ষণ’। ঘুস নিয়ে পণ্য ছেড়ে দেওয়ার কারণে অবৈধ চোরাচালানও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এই ঘুস সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।