যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে অগ্রগতি হয়েছে। এই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে শাহিন কাজী (২৫) নামে আরও এক আসামিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর শহরের লোন অফিস পাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে শাহিন কাজী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আটক শাহিন কাজী যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁচড়া রায়পাড়া (তুলোতলা মোড়) এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি বর্তমানে যশোর সদর ফাঁড়ির উল্টো পাশে লোন অফিস পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের জামাই বাসেদ আলী পরশ এবং তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালীন শাহিন কাজীর নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহিন কাজীর নাম প্রকাশ করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই অলক কুমার দে তাকে আটক করেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শাহিন কাজী এই হত্যাকাণ্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। ভাড়াটে খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব এবং সর্বশেষ শাহিন কাজীসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অলক কুমার দে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















