০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

সীমান্তে গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার অবস্থা অপরিবর্তিত: উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১২

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চমেক হাসপাতালের চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড জরুরি বৈঠক শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও বর্তমান অবস্থা
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় মেডিকেল বোর্ড হুজাইফার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে। বর্তমানে সে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তাকে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ কমাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হুজাইফার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে। তবে মাথার ভেতরে বিদ্ধ হওয়া গুলিটি এখনো বের করা সম্ভব হয়নি।
যেভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয় হুজাইফা
গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানান, শনিবার রাতভর গোলাগুলির পর রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হয়েছিল। হুজাইফা বাড়ির কাছে সড়কে খেলতে বের হলে হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা একটি গুলি তার মুখের এক পাশ দিয়ে ঢুকে মাথায় বিদ্ধ হয়। হুজাইফা লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের সন্তান।
গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। বিমান হামলা, ড্রোন এবং মর্টার শেলের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলো। এর সাথে নতুন করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওপারের এই যুদ্ধের প্রভাবে টেকনাফের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

সর্বাধিক পঠিত

নড়াইলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে : পিস্তল ও ৮০০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৪

সীমান্তে গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার অবস্থা অপরিবর্তিত: উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ

আপডেট: ০৩:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চমেক হাসপাতালের চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড জরুরি বৈঠক শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও বর্তমান অবস্থা
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় মেডিকেল বোর্ড হুজাইফার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে। বর্তমানে সে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তাকে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ কমাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হুজাইফার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে। তবে মাথার ভেতরে বিদ্ধ হওয়া গুলিটি এখনো বের করা সম্ভব হয়নি।
যেভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয় হুজাইফা
গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানান, শনিবার রাতভর গোলাগুলির পর রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হয়েছিল। হুজাইফা বাড়ির কাছে সড়কে খেলতে বের হলে হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা একটি গুলি তার মুখের এক পাশ দিয়ে ঢুকে মাথায় বিদ্ধ হয়। হুজাইফা লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের সন্তান।
গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। বিমান হামলা, ড্রোন এবং মর্টার শেলের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলো। এর সাথে নতুন করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওপারের এই যুদ্ধের প্রভাবে টেকনাফের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।