সরকারি নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করেও ওভারটাইম বা অধিকাল ভাতা ন পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার সকালে বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তারা এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, কার্গো ইয়ার্ড ও রাজস্ব ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যানার টানিয়ে তাদের দাবি জানান।
আন্দোলনকারী কর্মচারীরা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পরপরই নভেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সকল কর্মচারীর অধিকাল ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা এখন আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনেও তারা কাজ করে থাকেন।
বিক্ষুব্ধরা জানান, ‘বাংলাদেশ স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০২৫’ এবং প্রচলিত ‘শ্রম আইন’ অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের বিপরীতে ভাতা পাওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। অথচ প্রজ্ঞাপনের দোহাই দিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ভাতা চালুর দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ শামীম হোসেনের সুপারিশসহ একটি লিখিত আবেদন ইতোমধ্যে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওপর মহল থেকে কোনো সুরাহা আসেনি।
পথসভায় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বকেয়া পরিশোধ ও ভাতা পুনরায় চালু করা না হলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিক্ষোভের মূল কারণসমূহ: : গত নভেম্বর ২০২৫ থেকে অধিকাল ভাতা পাচ্ছেন না কর্মচারীরা।
: শ্রম আইন ও স্থলবন্দর প্রবিধানমালার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত।
: সকাল ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ডিউটি করেও পাওনা নেই।
: নির্ধারিত বেতনে বাড়তি শ্রম দেওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম।





















