রাজধানীর বনশ্রীতে স্কুলপড়ুয়া তরুণী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন রেস্তোরাঁ কর্মী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকারের পাশাপাশি লিলিকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার তথ্যও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৩ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন স্বীকার করেছেন যে নিহত লিলির সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে বিভিন্ন সময় তিনি আকার-ইঙ্গিতে প্রেমের প্রকাশ করতেন। এমনকি লিলির পরিবার বাসা থেকে গ্রামে গেলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বাসায় একা পেয়ে মিলন লিলিকে তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে লিলি তাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং জানান, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে তিনি কোনো কর্মচারীর সঙ্গে যাবেন না। এ সময় লিলি মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করেন বলেও জানায় র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন আরও জানান, তার অনৈতিক প্রস্তাবে সহযোগিতা না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এর আগে শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোডের এল ব্লকের ২/১ নম্বর রোডের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার লিলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির খিলগাঁও থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে যেকোনো সময় হত্যাটি সংঘটিত হতে পারে।
নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বাবা-মা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়। লিলির বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।





















