০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৬

যশোর শহরের মাইকপট্টি এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের এফডিআর (স্থায়ী আমানত) ও সঞ্চয়ী হিসাবের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ব্যাংকটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে গ্রাহকদের এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। গ্রাহকদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি কখনো অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভন, কখনো দ্রুত টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেন। তবে সম্প্রতি একাধিক গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে জানতে পারেন, তাদের হিসাবে কোনো অর্থ নেই।
পরে অনুসন্ধানে গ্রাহকরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাদের অজান্তেই হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভুক্তভোগী সেলিনা খাতুন জানান, টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন তাকে অগ্রণী ব্যাংকের ছয় লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তখনই তিনি নিশ্চিত হন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন।
আরেক ভুক্তভোগী ডা. মো. আবু সাইম বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নানা প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকেও বড় অঙ্কের টাকা নেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে শুরুতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।
রোববার বিক্ষোভ চলাকালে ব্যাংকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথমে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বুঝে কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়, ফলে গ্রাহক ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তবে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ভুক্তভোগীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন।

সর্বাধিক পঠিত

নড়াইলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে : পিস্তল ও ৮০০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার ৪

যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ

আপডেট: ১২:১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

যশোর শহরের মাইকপট্টি এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের এফডিআর (স্থায়ী আমানত) ও সঞ্চয়ী হিসাবের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ব্যাংকটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে গ্রাহকদের এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। গ্রাহকদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি কখনো অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভন, কখনো দ্রুত টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেন। তবে সম্প্রতি একাধিক গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে জানতে পারেন, তাদের হিসাবে কোনো অর্থ নেই।
পরে অনুসন্ধানে গ্রাহকরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাদের অজান্তেই হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভুক্তভোগী সেলিনা খাতুন জানান, টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন তাকে অগ্রণী ব্যাংকের ছয় লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তখনই তিনি নিশ্চিত হন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন।
আরেক ভুক্তভোগী ডা. মো. আবু সাইম বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নানা প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকেও বড় অঙ্কের টাকা নেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে শুরুতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।
রোববার বিক্ষোভ চলাকালে ব্যাংকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথমে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বুঝে কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়, ফলে গ্রাহক ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তবে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ভুক্তভোগীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন।