শ্বেত বর্ণ গায়ের রঙ হওয়ায় স্বামী কর্তৃক পরিত্যক্ত আলোচিত মনিরা বেগমের মেয়ে আফিয়ার পিতৃত্ব সংক্রান্ত জিডি (সাধারণ ডায়েরি) তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। এর ফলে দ্রুতই শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সোমবার বিকেলে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ হালদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর রাতে আফিয়ার মা মনিরা বেগম কোতোয়ালি থানায় এই জিডি দায়ের করেছিলেন। এসআই দেবাশীষ হালদার ডিএনএ পরীক্ষাসহ আইনগত কার্যক্রম শুরুর আবেদন জানালে বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মন্ডল তা মঞ্জুর করে
এসআই দেবাশীষ হালদার জানান, আদালতের লিখিত নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পরই ডিএনএ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন,”পুলিশ আফিয়ার ডিএনএ পরীক্ষা করবে। একই সাথে আফিয়ার বাবারও ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। প্রথমে আফিয়ার বাবাকে খোঁজা হবে। তিনি যদি দেশের বাইরে থাকেন কিংবা তাকে এই মুহূর্তে না পাওয়া যায়, তবে দাদা, চাচা কিংবা রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এমন কারও ডিএনএ পরীক্ষা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”
এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত সিআইডি সদর দপ্তরে করানো হবে।
জানা যায়, পাঁচ বছর আগে যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদ মোল্লার মেয়ে মনিরার সাথে ফতেপুর ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে মোজাফফর মোল্লার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দুই বছরের মাথায় জন্ম নেয় আফিয়া। কিন্তু আফিয়ার শ্বেত বর্ণ গায়ের রঙের কারণে মোজাফফর মোল্লা শিশুটির পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মনিরাকে তালাক দেন এবং বিদেশে পাড়ি জমান। স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে এরপর থেকে মনিরা মানবেতর জীবনযাপন শুরু করেন। সম্প্রতি পত্রপত্রিকা ও টিভি মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং পুলিশ সুপারের আইনগত সহায়তার আশ্বাসে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।



















