জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধির প্রতিবাদে যশোরে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার বিকেলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল ঠেলে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
চিত্রার মোড় থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি শেষে গাড়িখানা তেল পাম্পের সামনে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সমন্বয়কারী মুনির আজাদ, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাত্র ১০০ দিনের মধ্যেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা। জনগণ নতুন সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালীর সংকটের সময় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেওয়া হলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকারের সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং ধারাবাহিক গণবিরোধী সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
যুগ্ম সমন্বয়কারী মুনির আজাদ বলেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক সোহানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুবশক্তির নেতা বায়োজিদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, এক মাসের ব্যবধানে সরকার আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। নতুন ঘোষণায় প্রতি লিটার অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।










