অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী জাতীয় বাজেট প্রস্তুত করেছে সরকার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে গতি ফেরানোকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হওয়ায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি থাকবে, যা বৈদেশিক ঋণ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি।
সরকার আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণও বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকছে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় অর্থায়ন থাকবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ থেকে আসবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো, করপোরেট কর হ্রাস, ব্যবসা সহজীকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য ধাপে ধাপে সমন্বয়ের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো আগামী অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠবে।










