যশোর জেনারেল হাসপাতালে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দালালচক্র, যার শিকার হয়ে পদে পদে প্রতারিত হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি নানা কৌশলে রোগীদের বিভ্রান্ত করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল মানুষজন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকেই দালালদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়। কোনো রোগী টিকিট সংগ্রহ করলেই দালালরা মিথ্যা ও ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে তাদের ঘিরে ধরে। তারা রোগীদের বোঝাতে থাকে:
* মিথ্যা অজুহাত: হাসপাতালে প্রচণ্ড ভিড়, ডাক্তার নাকি বাইরে বসেছেন, অথবা বাইরে বিনামূল্যে (ফ্রি) মেডিকেল ক্যাম্প চলছে।
* বিভ্রান্তি সৃষ্টি: বাইরে দেখালে দ্রুত ও ভালো সেবা পাওয়া যাবে।
এসব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে রোগীদের ভুল পথে চালিত করা হয় এবং হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাগুরার আব্দুল জলিল তার মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন। বহির্বিভাগের ৬ নম্বর কক্ষের চিকিৎসক তাকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেন।
* চেম্বার থেকে বের হওয়ার পরই দালালরা তাকে জানায়, হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ বন্ধ।
* তাদের দাবি ছিল, বাইরে ডিজিটাল এক্স-রে করাতে হবে, যার খরচ ৪৫০ টাকা।
* অথচ সেদিন হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ খোলা ছিল এবং পরীক্ষাটি মাত্র ২০০ টাকায় করানো যেত।
ভুল তথ্য দিয়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে দালালচক্র আব্দুল জলিলের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫০ টাকা হাতিয়ে নেয
প্রতিদিনই মাগুরা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহসহ আশেপাশের জেলার শতাধিক রোগী এভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় এই দালালচক্রের কার্যক্রম চলছে।
ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, মাঝেমধ্যে অভিযান চললেও তা সাময়িক প্রভাব ফেলে এবং কিছুদিন পর দালালরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা হাসপাতাল প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং এবং টিকিট কাউন্টার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত বলেন, “হাসপাতালের ভেতরে দালালচক্র কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নিয়মিত অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোগীরা যাতে সঠিক সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে।”



















