১২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের ৩৭ দপ্তরের ৭৫টি অভিযোগের শুনানি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৯৩

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের উপস্থিতিতে যশোরে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এদিন জেলার ৩৭টি দপ্তরের মোট ৭৫টি অভিযোগের শুনানি গ্রহণ করা হয় এবং তাৎক্ষণিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান।
যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে রোববার সকাল ১০টা থেকে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই গণশুনানি চলে। এসময় দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।
বরখাস্ত-মামলা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
শুনানিতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনের বিষয়টি। দোকান বরাদ্দের নামে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রসিকতা করে বলেন, “তিনি ঘুষ খাননি; দাওয়াত খেয়েছেন, আর পাকা কলা খেয়েছেন।” তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দুদক চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে:
* বিআরটিএ (BRTA): অফিস এলাকায় দালালের আধিপত্যের অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান সহকারী পরিচালককে প্রশাসনের সহযোগিতায় দালাল নির্মূলের নির্দেশ দেন এবং আলোচিত দালাল সোহেলকে আটকের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
* সিভিল সার্জন কার্যালয়: চাকরি দেওয়ার নামে তিন লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সালমা খাতুন ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসাথে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাজনীন সুলতানার বিরুদ্ধে ঘুষ ও হুমকির অভিযোগে বদলি সহ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
* অগ্রণী ব্যাংক, যশোর শাখা: পিয়ন জসিম উদ্দিন কর্তৃক নয়জন গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের শুনানিতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গাফিলতির জন্য হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন চেয়ারম্যান। তিনি জসিমের পেনশন ও সম্পদ থেকে টাকা নিয়ে গ্রাহকদের পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং অন্যথায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
* যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: হাসপাতালের চিকিৎসা ও খাবারের মানোন্নয়ন এবং দালাল উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহিত ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ায় চেয়ারম্যান উষ্মা প্রকাশ করেন এবং অব্যবস্থাপনা দূর করতে তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন।
* শিক্ষা অফিস ও ভূমি অফিস সহ অন্যান্য দপ্তর: সড়ক ও জনপদ বিভাগের দুটি সড়কের উন্নয়নকাজ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ অনিয়ম, এবং ভূমি, রেজিস্ট্রিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক যশোর কার্যালয়কে তদন্তের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান।
গণশুনানি নিয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য
গণশুনানির উদ্বোধনকালে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “এই জেলা থেকে যখন বদলি হয়ে যাবেন, তখন যদি আপনার জন্য মানুষের চোখের কোনে পানি জমা হয়, তাহলে বুঝবেন কাজ করেছেন।” তিনি সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতা উভয়কে হাসিমুখে বিদায় দিতে পারলে এই উদ্যোগ সফল হবে বলে মনে করেন।
বিশেষ অতিথি কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়ম দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় গণশুনানি শুরু হয়। শুনানিতে বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আইনি নির্দেশনা প্রদান করেন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার।

সর্বাধিক পঠিত

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের প্রকাশ্য অনুসন্ধানের অনুমোদন

যশোরের ৩৭ দপ্তরের ৭৫টি অভিযোগের শুনানি

আপডেট: ১০:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের উপস্থিতিতে যশোরে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এদিন জেলার ৩৭টি দপ্তরের মোট ৭৫টি অভিযোগের শুনানি গ্রহণ করা হয় এবং তাৎক্ষণিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান।
যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে রোববার সকাল ১০টা থেকে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই গণশুনানি চলে। এসময় দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।
বরখাস্ত-মামলা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
শুনানিতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনের বিষয়টি। দোকান বরাদ্দের নামে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রসিকতা করে বলেন, “তিনি ঘুষ খাননি; দাওয়াত খেয়েছেন, আর পাকা কলা খেয়েছেন।” তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দুদক চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে:
* বিআরটিএ (BRTA): অফিস এলাকায় দালালের আধিপত্যের অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান সহকারী পরিচালককে প্রশাসনের সহযোগিতায় দালাল নির্মূলের নির্দেশ দেন এবং আলোচিত দালাল সোহেলকে আটকের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
* সিভিল সার্জন কার্যালয়: চাকরি দেওয়ার নামে তিন লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সালমা খাতুন ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসাথে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাজনীন সুলতানার বিরুদ্ধে ঘুষ ও হুমকির অভিযোগে বদলি সহ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
* অগ্রণী ব্যাংক, যশোর শাখা: পিয়ন জসিম উদ্দিন কর্তৃক নয়জন গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের শুনানিতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গাফিলতির জন্য হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন চেয়ারম্যান। তিনি জসিমের পেনশন ও সম্পদ থেকে টাকা নিয়ে গ্রাহকদের পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং অন্যথায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
* যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: হাসপাতালের চিকিৎসা ও খাবারের মানোন্নয়ন এবং দালাল উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহিত ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ায় চেয়ারম্যান উষ্মা প্রকাশ করেন এবং অব্যবস্থাপনা দূর করতে তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন।
* শিক্ষা অফিস ও ভূমি অফিস সহ অন্যান্য দপ্তর: সড়ক ও জনপদ বিভাগের দুটি সড়কের উন্নয়নকাজ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ অনিয়ম, এবং ভূমি, রেজিস্ট্রিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক যশোর কার্যালয়কে তদন্তের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান।
গণশুনানি নিয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য
গণশুনানির উদ্বোধনকালে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “এই জেলা থেকে যখন বদলি হয়ে যাবেন, তখন যদি আপনার জন্য মানুষের চোখের কোনে পানি জমা হয়, তাহলে বুঝবেন কাজ করেছেন।” তিনি সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতা উভয়কে হাসিমুখে বিদায় দিতে পারলে এই উদ্যোগ সফল হবে বলে মনে করেন।
বিশেষ অতিথি কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়ম দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় গণশুনানি শুরু হয়। শুনানিতে বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আইনি নির্দেশনা প্রদান করেন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার।