বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শতাধিক নেতাকর্মী ও পথচারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বরিশালেও কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার সংঘর্ষে জড়ান।
এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ জন এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌরশহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়।
র্যালিটি শহরের বটতলা মোড়ে পৌঁছালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এ বিষয়ে ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, তিনি সংঘর্ষের কথা শুনেছেন। তবে বিস্তারিত তথ্য তখনও পাননি। বিস্তারিত জানতে থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
গলাচিপা থানার ওসি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন বলেন, তিনি মির্জাগঞ্জের একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। গলাচিপার ঘটনা সম্পর্কে তখন পর্যন্ত তিনি কিছু জানতেন না।
বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
মিছিলের সামনে যাওয়া এবং স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, সামান্য উত্তেজনা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তা নিরসন করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জমজম টাওয়ারের সামনে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপুর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হন।
শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরের মিশনপাড়া থেকে বিএনপির একটি মিছিল বের হয়ে চাষাড়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাইয়ানের নেতৃত্বে শাহীন আহমেদ নামে একজনকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান পরিস্থিতি শান্ত করেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
দুপুরে সংঘর্ষের সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে পাঁচ পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একই দলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও নেতৃত্ব ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিয়ে বিরোধ, আবার কোথাও মিছিলের সামনে যাওয়া ও স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের পর সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।




















