১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজউক জোন-৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ, নোটিশ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫-এর পরিচালক মো. হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, মোবাইল কোর্টের পর রফা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রাজউকের জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হতে তিনি জোরালো লবিং চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরের জন্য প্রস্তুত করা একটি অভিযোগপত্রে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম অভিযোগটি দুদকে জমা দেবেন বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান, দুদকের কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অভিযুক্ত পরিচালক হামিদুল ইসলামের বক্তব্যও পাওয়া গেছে।

দুদকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের মাধ্যমে বিভিন্ন বাড়ির মালিককে নোটিশ দিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সেই নোটিশ গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি নিয়মিতভাবে কর্মকর্তাদের এলাকা পরিবর্তন করেন। পছন্দের এলাকায় দায়িত্ব পেতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মাসিক ভিত্তিতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, একই ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। শাহীন পৈতৃক জমি বিক্রি করে এবং মতিন স্ত্রীর গহনা বিক্রি ও ঋণ করে টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের কেউই টাকা ফেরত পাননি।

মো. মাজেদুল ইসলামের আগের একটি অভিযোগেও একই ধরনের তথ্য উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে রাজউকের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসারও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২-এর একটি ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

একই এলাকার হোল্ডিং-৮২-এর ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার করার অভিযোগে মোবাইল কোর্টের পর ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং এলাকা, বসিলা, চাঁদ উদ্যান ও তেজতুড়ি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন মালিকদের সঙ্গে রফার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগপত্রে হামিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০১০ সালের পর থেকে রংপুরে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ রয়েছে। শ্বশুরবাড়িতেও সম্পদ গড়ে তোলার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এসব সম্পদের বৈধ উৎস তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে জোন-৫-এর দায়িত্বে থাকা হামিদুল ইসলাম জোন-৪ (গুলশান) এ বদলির জন্য জোরালো লবিং করছেন এবং এ জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়েরও চেষ্টা করছেন।

অভিযোগে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামিদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসায়। তিনি দর্শনে এমএ ডিগ্রিধারী।

২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৬ সালে উপপরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি রাজউকের জোন-৫-এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০ এপ্রিল ও ২০ আগস্ট দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ এলে তা তদন্ত করে দেখা হয়।

তিনি বলেন, “যেকোনো অভিযোগ এলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখি। ইতিমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, “আমরা সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখি। কোনো অভিযোগ জমা পড়লে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তদন্ত শুরু করা হয়। এই অভিযোগটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেখা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। নোটিশ বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও নগর পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনআস্থা নষ্ট হয়।”

ধানমন্ডির বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাজউকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ শুনে আমরা ক্ষুব্ধ। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।”

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকাতেও এ ধরনের ঘটনা শোনা যায়। পরিচালক যদি নিজেই জড়িত থাকেন, তাহলে নিচের কর্মকর্তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। জবাবদিহিতা চাই।”

গুলশানের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “জোন পরিবর্তনের লবিংয়ের অভিযোগও গুরুতর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। দুদক যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে।”

অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের জোন-৫-এর পরিচালক মো. হামিদুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানি। এর আগে দুদকে অভিযোগ করা একজন তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি। কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।”

অভিযোগকারী মোহাম্মদ আব্দুল করিম বলেন, “জনস্বার্থে এই অভিযোগ করছি। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, যাতে এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হয়।”

রাজউক ও দুদকের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এখন নজর থাকবে দুদক ও রাজউকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সর্বাধিক পঠিত

নেপালে হিমবাহসৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ধ্বংস ২,৫০০ ভবন

রাজউক জোন-৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ, নোটিশ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

আপডেট: ১০:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫-এর পরিচালক মো. হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, মোবাইল কোর্টের পর রফা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রাজউকের জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হতে তিনি জোরালো লবিং চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরের জন্য প্রস্তুত করা একটি অভিযোগপত্রে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম অভিযোগটি দুদকে জমা দেবেন বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান, দুদকের কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অভিযুক্ত পরিচালক হামিদুল ইসলামের বক্তব্যও পাওয়া গেছে।

দুদকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের মাধ্যমে বিভিন্ন বাড়ির মালিককে নোটিশ দিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সেই নোটিশ গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি নিয়মিতভাবে কর্মকর্তাদের এলাকা পরিবর্তন করেন। পছন্দের এলাকায় দায়িত্ব পেতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মাসিক ভিত্তিতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, একই ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। শাহীন পৈতৃক জমি বিক্রি করে এবং মতিন স্ত্রীর গহনা বিক্রি ও ঋণ করে টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের কেউই টাকা ফেরত পাননি।

মো. মাজেদুল ইসলামের আগের একটি অভিযোগেও একই ধরনের তথ্য উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে রাজউকের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসারও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২-এর একটি ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

একই এলাকার হোল্ডিং-৮২-এর ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার করার অভিযোগে মোবাইল কোর্টের পর ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং এলাকা, বসিলা, চাঁদ উদ্যান ও তেজতুড়ি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন মালিকদের সঙ্গে রফার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগপত্রে হামিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০১০ সালের পর থেকে রংপুরে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ রয়েছে। শ্বশুরবাড়িতেও সম্পদ গড়ে তোলার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এসব সম্পদের বৈধ উৎস তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে জোন-৫-এর দায়িত্বে থাকা হামিদুল ইসলাম জোন-৪ (গুলশান) এ বদলির জন্য জোরালো লবিং করছেন এবং এ জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়েরও চেষ্টা করছেন।

অভিযোগে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামিদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসায়। তিনি দর্শনে এমএ ডিগ্রিধারী।

২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৬ সালে উপপরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি রাজউকের জোন-৫-এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০ এপ্রিল ও ২০ আগস্ট দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ এলে তা তদন্ত করে দেখা হয়।

তিনি বলেন, “যেকোনো অভিযোগ এলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখি। ইতিমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, “আমরা সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখি। কোনো অভিযোগ জমা পড়লে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তদন্ত শুরু করা হয়। এই অভিযোগটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেখা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। নোটিশ বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও নগর পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনআস্থা নষ্ট হয়।”

ধানমন্ডির বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাজউকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ শুনে আমরা ক্ষুব্ধ। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।”

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকাতেও এ ধরনের ঘটনা শোনা যায়। পরিচালক যদি নিজেই জড়িত থাকেন, তাহলে নিচের কর্মকর্তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। জবাবদিহিতা চাই।”

গুলশানের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “জোন পরিবর্তনের লবিংয়ের অভিযোগও গুরুতর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। দুদক যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে।”

অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের জোন-৫-এর পরিচালক মো. হামিদুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানি। এর আগে দুদকে অভিযোগ করা একজন তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি। কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।”

অভিযোগকারী মোহাম্মদ আব্দুল করিম বলেন, “জনস্বার্থে এই অভিযোগ করছি। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, যাতে এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হয়।”

রাজউক ও দুদকের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এখন নজর থাকবে দুদক ও রাজউকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।