০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফকিরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: আক্রান্ত শতাধিক, হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে অনীহা রোগীদের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৭২

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত দশ দিনে জটিলতা নিয়ে প্রায় ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার অভাবে অনেককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী এলেও, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকা এবং রোগীদের টেস্টে অনীহার কারণে ডেঙ্গু শনাক্তের কাজটি কঠিন হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীর ভিড়ে নির্ধারিত ওয়ার্ডে জায়গা হচ্ছে না। ফলে কেবিন ও সাধারণ ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু আক্রান্তদের রাখা হয়েছে। হাসপাতাল ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক এবং পার্শবর্তী বাগেরহাট ও খুলনায় গিয়েও অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ সুকুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গত ১৫ দিনে আউটডোরে ৫ হাজার ৬২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী জ্বর, কাশি ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগ রোগী পরীক্ষা করাতে আগ্রহী না হওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, রোগীরা টেস্ট করলে শনাক্তের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তো।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আরএমও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে এলেও শুধুমাত্র জটিল রোগীদেরই হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। বেশিরভাগ রোগী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা নিয়মিত প্লাটিলেট পরীক্ষা ও কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেবল ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্তের প্রাথমিক পরীক্ষাটি করা গেলেও, প্লাটিলেট কাউন্টসহ ডেঙ্গুর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা তাদের খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বাড়াচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি বেল্লাল হোসেন, সালমা বেগম ও শেখ আজিজুলের মতো একাধিক রোগী জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রায় সবাই জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। জটিলতা দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা করে তাদের ডেঙ্গু ধরা পড়ে।
এদিকে, স্থানীয় ফার্মেসি মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বর ও ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত নাপা, প্যারাসিটামল এবং স্যালাইন জাতীয় ওষুধের চাহিদা বাজারে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জমান সাগর বলেন, “সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফকিরহাটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ।”

সর্বাধিক পঠিত

একনেকের শর্ত শেষ হওয়ার আগেই ১,৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে পিডি নিয়োগ, মামুন বিশ্বাসকে ঘিরে প্রশ্ন

ফকিরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: আক্রান্ত শতাধিক, হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে অনীহা রোগীদের

আপডেট: ০৭:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত দশ দিনে জটিলতা নিয়ে প্রায় ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার অভাবে অনেককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী এলেও, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকা এবং রোগীদের টেস্টে অনীহার কারণে ডেঙ্গু শনাক্তের কাজটি কঠিন হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীর ভিড়ে নির্ধারিত ওয়ার্ডে জায়গা হচ্ছে না। ফলে কেবিন ও সাধারণ ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু আক্রান্তদের রাখা হয়েছে। হাসপাতাল ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক এবং পার্শবর্তী বাগেরহাট ও খুলনায় গিয়েও অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ সুকুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গত ১৫ দিনে আউটডোরে ৫ হাজার ৬২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী জ্বর, কাশি ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগ রোগী পরীক্ষা করাতে আগ্রহী না হওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, রোগীরা টেস্ট করলে শনাক্তের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তো।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আরএমও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে এলেও শুধুমাত্র জটিল রোগীদেরই হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। বেশিরভাগ রোগী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা নিয়মিত প্লাটিলেট পরীক্ষা ও কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেবল ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্তের প্রাথমিক পরীক্ষাটি করা গেলেও, প্লাটিলেট কাউন্টসহ ডেঙ্গুর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা তাদের খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বাড়াচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি বেল্লাল হোসেন, সালমা বেগম ও শেখ আজিজুলের মতো একাধিক রোগী জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রায় সবাই জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। জটিলতা দেখা দেওয়ায় পরীক্ষা করে তাদের ডেঙ্গু ধরা পড়ে।
এদিকে, স্থানীয় ফার্মেসি মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বর ও ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত নাপা, প্যারাসিটামল এবং স্যালাইন জাতীয় ওষুধের চাহিদা বাজারে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জমান সাগর বলেন, “সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফকিরহাটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ।”