১১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
১৫ জন বিএনপি কর্মীর জামায়াতে যোগদানের খবর ঘিরে সাতক্ষীরায় বিতর্ক

১৫ জন বিএনপি কর্মীর জামায়াতে যোগদানের খবর ঘিরে সাতক্ষীরায় বিতর্ক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৮

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ফিংড়ী এলাকায় ১৫ জন বিএনপি কর্মীর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের খবরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপি এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতারা বলছেন, নতুন যোগদানকারীরা ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই দলে এসেছেন।
যোগদান অনুষ্ঠান ও জামায়াতের দাবি
গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার ব্যাংদহা কাছারিবাড়ি জামে মসজিদে সিরাতুন্নবী মাহফিল শেষে ১৫ জন জামায়াতে যোগ দেন। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকসহ স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফিংড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. আবু সালেকের নেতৃত্বে এই ব্যক্তিরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মো. আবুল কালাম, মো. আ. সবুর, মো. হানিফ হোসেন এবং মো. নূর ইসলাম।
বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই খবর প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি লিখিত বিবৃতি দেয়। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, সংবাদে যাদের বিএনপির নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কখনোই দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, এই ব্যক্তিরা অতীতে বিভিন্ন সুবিধাভোগী ছিলেন এবং সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করলেও স্থানীয় নেতৃত্ব তাদের গুরুত্ব দেননি। ফলে তারা বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজেছেন। ডাবলু বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, তারা কোনো সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।” তিনি এ ধরনের সংবাদ প্রচারের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াতের বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, স্থানীয় জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার হাবিবুর রহমান বলেন, “মানুষ এখন ইসলামী রাজনীতিতে আস্থা রাখছে। এই যোগদান তারই প্রতিফলন।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপি সমর্থকরা বলছেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই সংবাদ ছড়ানো হয়েছে। তবে জামায়াতপন্থীরা মনে করছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এ ধরনের যোগদান বাড়ছে। এই ঘটনা সাতক্ষীরায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোটগ্রহণ

১৫ জন বিএনপি কর্মীর জামায়াতে যোগদানের খবর ঘিরে সাতক্ষীরায় বিতর্ক

১৫ জন বিএনপি কর্মীর জামায়াতে যোগদানের খবর ঘিরে সাতক্ষীরায় বিতর্ক

আপডেট: ১০:২৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ফিংড়ী এলাকায় ১৫ জন বিএনপি কর্মীর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের খবরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপি এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতারা বলছেন, নতুন যোগদানকারীরা ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই দলে এসেছেন।
যোগদান অনুষ্ঠান ও জামায়াতের দাবি
গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার ব্যাংদহা কাছারিবাড়ি জামে মসজিদে সিরাতুন্নবী মাহফিল শেষে ১৫ জন জামায়াতে যোগ দেন। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকসহ স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফিংড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. আবু সালেকের নেতৃত্বে এই ব্যক্তিরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মো. আবুল কালাম, মো. আ. সবুর, মো. হানিফ হোসেন এবং মো. নূর ইসলাম।
বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই খবর প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি লিখিত বিবৃতি দেয়। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, সংবাদে যাদের বিএনপির নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কখনোই দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, এই ব্যক্তিরা অতীতে বিভিন্ন সুবিধাভোগী ছিলেন এবং সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করলেও স্থানীয় নেতৃত্ব তাদের গুরুত্ব দেননি। ফলে তারা বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজেছেন। ডাবলু বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, তারা কোনো সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।” তিনি এ ধরনের সংবাদ প্রচারের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াতের বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, স্থানীয় জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার হাবিবুর রহমান বলেন, “মানুষ এখন ইসলামী রাজনীতিতে আস্থা রাখছে। এই যোগদান তারই প্রতিফলন।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপি সমর্থকরা বলছেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই সংবাদ ছড়ানো হয়েছে। তবে জামায়াতপন্থীরা মনে করছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এ ধরনের যোগদান বাড়ছে। এই ঘটনা সাতক্ষীরায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।