১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

ভারতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ঘিরে সীমান্তে চাপ বৃদ্ধি, বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ (সিআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট থানার তারালী ও হাকিমপুর সীমান্তে ব্যাপক সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষের সমাগম ঘটেছে। তাদের অনেকের নাগরিকত্ব-সম্পর্কিত বৈধ নথিপত্র না থাকায় ‘অনিবন্ধিত’ বা ‘কথিত বাংলাদেশি নাগরিক’ হিসেবে গণ্য করার আশঙ্কায় সীমান্তে এই চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীলতা রোধে সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়ন বিজিবি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিরিক্ত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে
বিজিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ কার্যক্রম আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
* ভোটের যোগ্যতা যাচাই: বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের জাতীয়তা ও ভোটার যোগ্যতা যাচাই করছেন।
* আতঙ্ক: এই কার্যক্রম রাজ্যের বিশেষ করে মুসলিম বাংলাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
* রাজনৈতিক বিভাজন: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সিআইআর-এর বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি সংবেদনশীল রূপ নিয়েছে।
* উদ্বেগের কেন্দ্র: বিশেষত ২০০২ সালের পর যারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম অভিবাসী হিসেবে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
* আটকের ঘটনা: ইতিমধ্যে ১ নভেম্বর ৪৫ জন ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছিল। পরে তারা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক দাবি করায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য আদালতে হাজির করা হয়।বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত মানুষ তারালী ও হাকিমপুর সীমান্তসহ সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছে।
* অমানবিক পরিস্থিতি: এদের অনেকেই খোলা জায়গায় অবস্থান করছে এবং শীত, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।
* খাদ্য সংকট: স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খাবার দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নারী-শিশুসহ অবস্থানকারীরা কঠিন দুরাবস্থায় পড়েছে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের উদ্যোগে শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হয়।

সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে বিজিবি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে:
* নিরাপত্তা বৃদ্ধি: সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
* নজরদারি: গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা।
* তথ্য সংগ্রহ: আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা।
* জনসংযোগ: স্থানীয় জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা।
* সচেতনতা: সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
বিজিবি জানিয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ সিআইআর কার্যক্রম যাতে সীমান্তে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করতে পারে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ কিশোর রাকিব, সন্তানের অপেক্ষায় মায়ের বুকভরা আর্তনাদ

ভারতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ঘিরে সীমান্তে চাপ বৃদ্ধি, বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট: ০৩:৫৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ (সিআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট থানার তারালী ও হাকিমপুর সীমান্তে ব্যাপক সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষের সমাগম ঘটেছে। তাদের অনেকের নাগরিকত্ব-সম্পর্কিত বৈধ নথিপত্র না থাকায় ‘অনিবন্ধিত’ বা ‘কথিত বাংলাদেশি নাগরিক’ হিসেবে গণ্য করার আশঙ্কায় সীমান্তে এই চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীলতা রোধে সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়ন বিজিবি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিরিক্ত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে
বিজিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ কার্যক্রম আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
* ভোটের যোগ্যতা যাচাই: বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের জাতীয়তা ও ভোটার যোগ্যতা যাচাই করছেন।
* আতঙ্ক: এই কার্যক্রম রাজ্যের বিশেষ করে মুসলিম বাংলাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
* রাজনৈতিক বিভাজন: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সিআইআর-এর বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি সংবেদনশীল রূপ নিয়েছে।
* উদ্বেগের কেন্দ্র: বিশেষত ২০০২ সালের পর যারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম অভিবাসী হিসেবে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
* আটকের ঘটনা: ইতিমধ্যে ১ নভেম্বর ৪৫ জন ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছিল। পরে তারা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক দাবি করায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য আদালতে হাজির করা হয়।বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত মানুষ তারালী ও হাকিমপুর সীমান্তসহ সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছে।
* অমানবিক পরিস্থিতি: এদের অনেকেই খোলা জায়গায় অবস্থান করছে এবং শীত, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।
* খাদ্য সংকট: স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খাবার দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নারী-শিশুসহ অবস্থানকারীরা কঠিন দুরাবস্থায় পড়েছে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের উদ্যোগে শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হয়।

সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে বিজিবি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে:
* নিরাপত্তা বৃদ্ধি: সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
* নজরদারি: গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা।
* তথ্য সংগ্রহ: আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা।
* জনসংযোগ: স্থানীয় জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা।
* সচেতনতা: সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
বিজিবি জানিয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ সিআইআর কার্যক্রম যাতে সীমান্তে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করতে পারে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে।