ভারতের মাটিতে আবারও হোয়াইটওয়াশ হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো টিম ইন্ডিয়ার। গত বছর নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর এবার চলতি বছর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পরাজিত হলো তারা। গুয়াহাটি টেস্টে প্রোটিয়াদের কাছে বিশাল ৪০৮ রানের ব্যবধানে হেরেছে ভারত, যা টেস্ট ইতিহাসে রানের হিসাবে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এর আগে কলকাতা টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ৩০ রানে হারিয়েছিল স্বাগতিকদের।
কলকাতা এবং গুয়াহাটি – উভয় টেস্টেই ভারতের হারার মূল কারণ হিসেবে বারবার উঠে এসেছে ব্যাটিং বিপর্যয়। ঘরের মাঠে নিজেদের সেরা ব্যাটিং করার কথা থাকলেও কেন বারবার ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেন, সে প্রশ্ন এখন প্রবল সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে ক্রিকেট মহল। দল নির্বাচন বা ব্যাটিং লাইনআপের ভারসাম্যের অভাব—কোনটা এই ভরাডুবির জন্য দায়ী, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গুয়াহাটি টেস্টের শেষ দিনে পরাজয় এড়াতে ভারতের হাতে ছিল ৮ উইকেট এবং পুরো ৯০ ওভার। কিন্তু টপ অর্ডার ব্যাটারদের ধৈর্যের অভাবের কারণে তারা মাত্র ৪৮ ওভার টিকতে পারে এবং যোগ করে মাত্র ১১৩ রান। রবীন্দ্র জাদেজা (৫৪ রান) ছাড়া ক্রিজে কেউ দাঁড়াতে পারেননি।
শুধু ব্যাটারদের দোষ দিলেই চলবে না, গুয়াহাটির পিচে ভারতীয় বোলাররাও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার জেনসেন ৭ উইকেট নিলেও ভারতের জসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ২টি করে উইকেট। কুলদীপ যাদব এবং জাদেজা ছাড়া অন্য কোনো বোলার প্রোটিয়া ব্যাটারদের সেভাবে প্রভাবিত করতে পারেননি। ফলে যে পিচে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ মুখ থুবড়ে পড়ল, সেখানেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা স্বচ্ছন্দে রান পেয়েছেন। তাদের ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল। এর আগে ২০০০ সালে সবশেষ তারা ভারতে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। ভারতের মাঠে নিজেদের শেষ তিন সিরিজের মধ্যে দুটিতেই হারল ভারত।
ম্যাচের স্কোরকার্ডের মূল অংশ:
* প্রথম ইনিংস: দক্ষিণ আফ্রিকা – ৪৮৯ রান (সেনুরান মুত্থুসামির সেঞ্চুরি); ভারত – ২০১ রান।
* দ্বিতীয় ইনিংস: দক্ষিণ আফ্রিকা – ২৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা; ভারতের লক্ষ্য – ৫৪৯ রান।
* ভারতীয় ব্যাটিংয়ে নজর কাড়েন: রবীন্দ্র জাদেজা (৫৬ বলে ৫৪ রান), সাই সুদর্শন (১৩৯ বলে ১৪ রান)।
* দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার: সাইমন হার্মার (২৩ ওভারে ৩৭ রানে ৬ উইকেট), কেশব মহারাজ (২ উইকেট)।
* নতুন রেকর্ড: এইডেন মার্করাম নন-উইকেটকিপার হিসেবে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ৯টি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ড গড়েন।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, ৯ ম্যাচে ৪ জয়ে ৫৪.১৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে নেমে এসেছে ভারত।



























