০৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

আরও ২০ বার ভূমিকম্পে কাঁপতে পারে বাংলাদেশ!

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৪

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একটি অজ্ঞাত ভূ-চ্যুতি বা ফল্ট চিহ্নিত হয়েছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ফল্ট থেকে শক্তি নির্গত হলে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৯ মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।
ঘন ঘন ভূকম্পন ও বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও প্রায় ২০ বার ভূকম্পন অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, যদি ৫.৭ মাত্রার চেয়ে বড় কোনো ভূমিকম্প হয়, তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। সম্প্রতি অনুভূত ভূমিকম্পগুলোর সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল হিসেবে নরসিংদীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ তিন প্লেটের সংযোগস্থলে
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মোট তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত: ভারত, ইউরেশিয়া এবং বার্মা। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের রুবাইয়াত কবির জানান, বর্তমানে এই প্লেটগুলো আটকে আছে এবং ধীরে ধীরে খুলছে। যদি ভারতীয় প্লেটটি ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়, তবে বাংলাদেশ মারাত্মক ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে পড়বে।
জমে থাকা শক্তি ও ‘রিং অফ ফায়ার’ তুলনা
২০১৬ সালের গবেষণায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় যে ‘মেগাথার্স্ট ফল্ট’ শনাক্ত হয়, তা পললস্তরের নিচে মাইলজুড়ে বিস্তৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ব্যাখ্যা করেন, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্লেট সংযোগস্থলে গত ৮০০-১০০০ বছরের মধ্যে জমে থাকা শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি। এই কারণে তিনি এটিকে ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মতো বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ বর্তমানে ঘোড়াশালের ফাটল থেকে সংগৃহীত মাটি পরীক্ষা করছে। সাবেক অধ্যাপক আ স ম ওবায়দুল্লাহ জানান, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভূমিকম্পের গভীরতা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেন যে, টেকনাফ-মিয়ানমার ফল্ট লাইনে ১৭৬২ সালে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৩ মিটার উপরে উঠে এসেছিল। বর্তমানে সেখানে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে। প্লেটগুলোর এই ধারাবাহিক চলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার ১

আরও ২০ বার ভূমিকম্পে কাঁপতে পারে বাংলাদেশ!

আপডেট: ০৩:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একটি অজ্ঞাত ভূ-চ্যুতি বা ফল্ট চিহ্নিত হয়েছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ফল্ট থেকে শক্তি নির্গত হলে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৯ মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।
ঘন ঘন ভূকম্পন ও বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও প্রায় ২০ বার ভূকম্পন অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, যদি ৫.৭ মাত্রার চেয়ে বড় কোনো ভূমিকম্প হয়, তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। সম্প্রতি অনুভূত ভূমিকম্পগুলোর সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল হিসেবে নরসিংদীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ তিন প্লেটের সংযোগস্থলে
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মোট তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত: ভারত, ইউরেশিয়া এবং বার্মা। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের রুবাইয়াত কবির জানান, বর্তমানে এই প্লেটগুলো আটকে আছে এবং ধীরে ধীরে খুলছে। যদি ভারতীয় প্লেটটি ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়, তবে বাংলাদেশ মারাত্মক ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে পড়বে।
জমে থাকা শক্তি ও ‘রিং অফ ফায়ার’ তুলনা
২০১৬ সালের গবেষণায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় যে ‘মেগাথার্স্ট ফল্ট’ শনাক্ত হয়, তা পললস্তরের নিচে মাইলজুড়ে বিস্তৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ব্যাখ্যা করেন, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্লেট সংযোগস্থলে গত ৮০০-১০০০ বছরের মধ্যে জমে থাকা শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি। এই কারণে তিনি এটিকে ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মতো বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ বর্তমানে ঘোড়াশালের ফাটল থেকে সংগৃহীত মাটি পরীক্ষা করছে। সাবেক অধ্যাপক আ স ম ওবায়দুল্লাহ জানান, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভূমিকম্পের গভীরতা ও প্রকৃতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেন যে, টেকনাফ-মিয়ানমার ফল্ট লাইনে ১৭৬২ সালে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৩ মিটার উপরে উঠে এসেছিল। বর্তমানে সেখানে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে। প্লেটগুলোর এই ধারাবাহিক চলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।