০৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

ভূমিকম্পে সাগরের বুকে জন্ম নেয়া সেন্টমার্টিন দ্বীপ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬২৬

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, যা শান্ত বালুকাময় সৈকত ও নীল জলের জন্য পর্যটকদের কাছে ‘স্বপ্নপুরী’ হিসেবে পরিচিত। তবে ভূতত্ত্ববিদদের গবেষণায় জানা গেছে, এই আকর্ষণীয় দ্বীপটির জন্মরহস্য লুকিয়ে আছে প্রায় ২৬৩ বছর আগের এক বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে।
গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমান সেন্টমার্টিন দ্বীপের ভৌগোলিক উপস্থিতি ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিলের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট। ওই ভূমিকম্প সাগরের তলদেশে বিশাল পরিবর্তন ঘটায়।
রিখটার স্কেলে ৮.৫ বা তারও বেশি মাত্রার কম্পন
বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৃষ্টির পেছনে মূল কারণ হলো ভারত ও মিয়ানমার প্লেটের সংযোগস্থলে থাকা এক বিশাল প্লেটচ্যুতি অঞ্চল। ঐতিহাসিক নথি এবং আধুনিক ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে প্রায় ৮.৫ বা তারও বেশি মাত্রার ছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত। ওই রাতেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
ভূমিকম্পজনিত সহ-উত্থানে জেগে ওঠে ভূখণ্ড
এই প্রলয়ঙ্করী কম্পনের ফলে সমুদ্রের তলদেশে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি ‘ভূমিকম্পজনিত সহ-উত্থান’ হিসেবে চিহ্নিত। এর কারণে সমুদ্রের নিচের তলদেশের বৃহৎ অংশ স্থায়ীভাবে উপরে উঠে আসে। এই প্রক্রিয়ার ফলেই সেন্টমার্টিন এবং টেকনাফের পূর্বের ডুবো চরগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে স্থায়ী ভূখণ্ড হিসেবে জেগে ওঠে।
ভূতাত্ত্বিক গবেষণা এবং কার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ সেই রাতে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতায় উপরে উঠে এসেছিল। দ্বীপে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠে আসা মৃত প্রবালের স্তরই এই উত্থানের সবচেয়ে দৃঢ় প্রমাণ। এই প্রবালগুলো পানির নিচে ছিল এবং হঠাৎ উপরে উঠে আসায় মারা যায়। এটিই নিশ্চিত করে যে ১৭৬২ সালের আগে এই অঞ্চলটি স্থায়ী স্থলভূমি ছিল না।
গবেষকরা জানান, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কেবল সেন্টমার্টিনকে নতুন ভূখণ্ডই দেয়নি; এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসও বিপুল প্রাণহানি ঘটিয়ে পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক মানচিত্র পাল্টে দিয়েছিল।

সর্বাধিক পঠিত

৩০০ টাকার কেনাকাটায় রয়েল এনফিল্ড জিতলেন যশোরের হৃদয়

ভূমিকম্পে সাগরের বুকে জন্ম নেয়া সেন্টমার্টিন দ্বীপ

আপডেট: ১১:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, যা শান্ত বালুকাময় সৈকত ও নীল জলের জন্য পর্যটকদের কাছে ‘স্বপ্নপুরী’ হিসেবে পরিচিত। তবে ভূতত্ত্ববিদদের গবেষণায় জানা গেছে, এই আকর্ষণীয় দ্বীপটির জন্মরহস্য লুকিয়ে আছে প্রায় ২৬৩ বছর আগের এক বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে।
গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমান সেন্টমার্টিন দ্বীপের ভৌগোলিক উপস্থিতি ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিলের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট। ওই ভূমিকম্প সাগরের তলদেশে বিশাল পরিবর্তন ঘটায়।
রিখটার স্কেলে ৮.৫ বা তারও বেশি মাত্রার কম্পন
বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৃষ্টির পেছনে মূল কারণ হলো ভারত ও মিয়ানমার প্লেটের সংযোগস্থলে থাকা এক বিশাল প্লেটচ্যুতি অঞ্চল। ঐতিহাসিক নথি এবং আধুনিক ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে প্রায় ৮.৫ বা তারও বেশি মাত্রার ছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত। ওই রাতেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
ভূমিকম্পজনিত সহ-উত্থানে জেগে ওঠে ভূখণ্ড
এই প্রলয়ঙ্করী কম্পনের ফলে সমুদ্রের তলদেশে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি ‘ভূমিকম্পজনিত সহ-উত্থান’ হিসেবে চিহ্নিত। এর কারণে সমুদ্রের নিচের তলদেশের বৃহৎ অংশ স্থায়ীভাবে উপরে উঠে আসে। এই প্রক্রিয়ার ফলেই সেন্টমার্টিন এবং টেকনাফের পূর্বের ডুবো চরগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে স্থায়ী ভূখণ্ড হিসেবে জেগে ওঠে।
ভূতাত্ত্বিক গবেষণা এবং কার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ সেই রাতে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতায় উপরে উঠে এসেছিল। দ্বীপে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠে আসা মৃত প্রবালের স্তরই এই উত্থানের সবচেয়ে দৃঢ় প্রমাণ। এই প্রবালগুলো পানির নিচে ছিল এবং হঠাৎ উপরে উঠে আসায় মারা যায়। এটিই নিশ্চিত করে যে ১৭৬২ সালের আগে এই অঞ্চলটি স্থায়ী স্থলভূমি ছিল না।
গবেষকরা জানান, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কেবল সেন্টমার্টিনকে নতুন ভূখণ্ডই দেয়নি; এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসও বিপুল প্রাণহানি ঘটিয়ে পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক মানচিত্র পাল্টে দিয়েছিল।