০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
মনিহার সিনেমা হল ভাঙার খবরে আবেগাপ্লুত অনেকে

মনিহার সিনেমা হল ভাঙার খবরে আবেগাপ্লুত অনেকে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৯

যশোরের ঐতিহাসিক মনিহার সিনেমা হল ভেঙে ফেলার খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এশিয়াতেও পরিচিতি পাওয়া এই সিনেমা হলকে অনেকেই যশোরের রত্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর সম্ভাব্য বিলুপ্তি নিয়ে অনেকের মনেই কষ্ট এবং হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৮২ সালে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম এই সিনেমা হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। প্রায় চার বিঘা জমির উপর নির্মিত ১৪৩০ আসনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই হলটি ১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ‘জনি’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এর অনন্য স্থাপত্যশৈলী, যেমন সিনেমার রিলের আদলে র‌্যাম্প সিঁড়ি, ঝরনা, এবং স্বয়ংক্রিয় পর্দা এটিকে দেশজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তিনতলার ড্রেস সার্কেল রুমে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার নিয়ে ওঠার সুযোগ ছিল, যা সেই সময় মানুষের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করে।
দীর্ঘদিন ধরে হলের সাথে জড়িত অনেকেই তাদের স্মৃতিচারণ করেন। ১১ বছর বয়সে প্রথম সিনেমা দেখা আবু কালাম জানান, তখন টিকিট পাওয়া ছিল ‘সোনার হরিণ’-এর মতো। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হতো, কখনো কখনো টিকিট না পেয়ে অসদুপায়ও অবলম্বন করা হতো। সদর উপজেলার শাহজাহান আলী স্মরণ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তার এক আত্মীয় শুধু মনিহারে সিনেমা দেখার জন্য এসেছিলেন।
মনিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা প্রবীণ বিনান্ত চৌধুরী জানান, তাদের এলাকা থেকে দল বেঁধে গরুর গাড়িতে করে মানুষ সিনেমা দেখতে আসতেন। টিকিট না পেলে সিটি কলেজের মাঠে পিকনিক করে রাত কাটাতেন, পরদিন সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরতেন।
মনিহার বাসস্ট্যান্ডে ২৫ বছর ধরে ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রি করা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের পরিচিতি মনিহারের জন্যই। এটি শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি যশোরবাসীর আবেগ ও স্মৃতি।
হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মিঠু জানান, ভালো মানের ছবি না আসায় দর্শক কমে গেছে এবং হলটি লোকসানে চলছে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। তাই বাধ্য হয়ে হল ভেঙে মার্কেট ও আবাসিক হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে তিনি জানান, মূল হলটি ভেঙে ফেলা হলেও দুশো বা তার বেশি আসনের একটি সিনেপ্লেক্স তৈরি করা হবে।
যশোরের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মনিহারকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন বহু সুধীজন। তাদের মতে, এটি শুধু একটি সিনেমা হল নয়, হাজারো মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রতিচ্ছবি।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন:

মনিহার সিনেমা হল ভাঙার খবরে আবেগাপ্লুত অনেকে

মনিহার সিনেমা হল ভাঙার খবরে আবেগাপ্লুত অনেকে

আপডেট: ০৪:৩০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যশোরের ঐতিহাসিক মনিহার সিনেমা হল ভেঙে ফেলার খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এশিয়াতেও পরিচিতি পাওয়া এই সিনেমা হলকে অনেকেই যশোরের রত্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর সম্ভাব্য বিলুপ্তি নিয়ে অনেকের মনেই কষ্ট এবং হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৮২ সালে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম এই সিনেমা হল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। প্রায় চার বিঘা জমির উপর নির্মিত ১৪৩০ আসনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই হলটি ১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ‘জনি’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এর অনন্য স্থাপত্যশৈলী, যেমন সিনেমার রিলের আদলে র‌্যাম্প সিঁড়ি, ঝরনা, এবং স্বয়ংক্রিয় পর্দা এটিকে দেশজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তিনতলার ড্রেস সার্কেল রুমে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার নিয়ে ওঠার সুযোগ ছিল, যা সেই সময় মানুষের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করে।
দীর্ঘদিন ধরে হলের সাথে জড়িত অনেকেই তাদের স্মৃতিচারণ করেন। ১১ বছর বয়সে প্রথম সিনেমা দেখা আবু কালাম জানান, তখন টিকিট পাওয়া ছিল ‘সোনার হরিণ’-এর মতো। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হতো, কখনো কখনো টিকিট না পেয়ে অসদুপায়ও অবলম্বন করা হতো। সদর উপজেলার শাহজাহান আলী স্মরণ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তার এক আত্মীয় শুধু মনিহারে সিনেমা দেখার জন্য এসেছিলেন।
মনিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা প্রবীণ বিনান্ত চৌধুরী জানান, তাদের এলাকা থেকে দল বেঁধে গরুর গাড়িতে করে মানুষ সিনেমা দেখতে আসতেন। টিকিট না পেলে সিটি কলেজের মাঠে পিকনিক করে রাত কাটাতেন, পরদিন সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরতেন।
মনিহার বাসস্ট্যান্ডে ২৫ বছর ধরে ইলেকট্রিক পণ্য বিক্রি করা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের পরিচিতি মনিহারের জন্যই। এটি শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি যশোরবাসীর আবেগ ও স্মৃতি।
হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মিঠু জানান, ভালো মানের ছবি না আসায় দর্শক কমে গেছে এবং হলটি লোকসানে চলছে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। তাই বাধ্য হয়ে হল ভেঙে মার্কেট ও আবাসিক হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে তিনি জানান, মূল হলটি ভেঙে ফেলা হলেও দুশো বা তার বেশি আসনের একটি সিনেপ্লেক্স তৈরি করা হবে।
যশোরের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মনিহারকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন বহু সুধীজন। তাদের মতে, এটি শুধু একটি সিনেমা হল নয়, হাজারো মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রতিচ্ছবি।