রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তবে তার অনার্স ডিগ্রি না থাকা এবং নিয়োগের যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে এ পদে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ এইচ এম আসলাম হোসেন ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) পদে সরাসরি যোগ দেন। এর আগে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা ও সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি রাবির একাডেমিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের আবেদনের শর্তে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও আসলাম হোসেনের নিয়োগের ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে সরাসরি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা এর আগে তিনি দেখেননি। এ নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক সুপারিশ থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদও এ নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, আসলাম হোসেনের ব্যক্তিগত ফাইল পর্যালোচনা করে তাকে এ পদের জন্য যোগ্য মনে হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই তাকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি অনার্স বা স্নাতক ডিগ্রি না করলেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলেও দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, যোগ্যতা বিবেচনা করেই এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগের সময় নির্ধারিত যোগ্যতা অনুসরণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত বলেও মত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ এইচ এম আসলাম হোসেন ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
চাকরিজীবনের শুরুতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। পরে সহকারী রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) পদে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন একাডেমিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।




















