জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কর ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিব। একই সঙ্গে তাকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবেও পদায়ন করেছে সরকার।
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। তিনি বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন। সোমবারই ছিল আবদুর রহমান খানের চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস।
আহসান হাবিব আয়কর ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কর প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের সময় আহসান হাবিবকে সিআইসির প্রধান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর বড় শিল্পগোষ্ঠীর কর ফাঁকি ও অনিয়ম অনুসন্ধানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর আগে ঢাকার কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আলোচিত কর তদন্তেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলসহ দেশের ৪০ জন কর কমিশনারকে একযোগে বদলি করা হয়, যা সংস্থাটির ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় তৎকালীন সিআইসির মহাপরিচালক খাইরুল ইসলামকে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) বদলি করে তার স্থানে আহসান হাবিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, সংস্থাটির শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডারের পরিবর্তে এনবিআরের নিজস্ব কর বা কাস্টমস ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হোক। সরকারের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তে সেই দাবির প্রতিফলন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান দায়িত্ব পালনকালে এনবিআরের নীতি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পৃথক করার সরকারি উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন। তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারা আন্দোলনে নামেন। পরবর্তীতে সরকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরত্ব পুরোপুরি কাটেনি।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে আহসান হাবিব এখন দেশের কর প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং এনবিআরের চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই হবে তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।





















