আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা জটিলতায় পড়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি এখন নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ বা জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আসন সমঝোতায় যত সংকট
মূলত আসন সংখ্যা নিয়েই দুই দলের মধ্যে মূল বিরোধ দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে:
* ইসলামী আন্দোলনের দাবি: তারা ন্যূনতম ৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়।
* জামায়াতের অবস্থান: জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়।
এই মতৈক্যের অভাবেই বুধবার ১১ দলের জোটের প্রার্থী ঘোষণার নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান জামায়াতের সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠক এবং জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। জামায়াত কি শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
গাজী আতাউর রহমান জানান, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। জামায়াতের বাইরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চলছে। বিশেষ করে:
* ১২ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
* শুরু থেকে যেসব দল ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে ছিল, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
* যাঁরা ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাঁদের নিয়ে নতুন পথরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে।
সমঝোতার শেষ আশাটুকুও আছে
জটিলতা থাকলেও সমঝোতার পথ একদম বন্ধ হয়ে যায়নি বলে জানান এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখতে চায়। তবে কেউ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে বা অবহেলা করবে—এমন রাজনীতি তারা করবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকলে আসন সংখ্যা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। ইসলামী আন্দোলন বর্তমানে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে এবং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে জানানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।





















