০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

প্রেমিকের মৃতদেহকেই বিয়ে করে খুনিদের ফাঁসি চাইলেন প্রেমিকা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৯৮

: উচ্চবর্ণের মেয়ের প্রেমে পড়ার ‘অপরাধে’ নিচু জাতের যুবক প্রেমিক সক্ষম তাঁতী (২০)-কে নৃশংসভাবে খুন করার পর এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিলেন প্রেমিকা আঁচল। হত্যার পর প্রেমিকের নিথর দেহের পায়ের কাছে বসে সিঁদুর পরে বিয়ে সম্পন্ন করলেন তিনি। সমাজের রক্তচক্ষু ও বর্ণবাদী ঘৃণার বিরুদ্ধে এটি যেন এক নীরব বিদ্রোহ।
মহারাষ্ট্রের নান্দেদে তিন বছরের এই প্রেমকে আঁচলের পরিবার মেনে নেয়নি শুধু সক্ষম ‘নিচু’ জাতের ছেলে হওয়ায়।
জাত-পিশাচদের হাতে নির্মম খুন
জানা যায়, সক্ষম ও আঁচল গোপনে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আঁচলের বাবা ও ভাইরা সেই খবর পেয়ে সক্ষমকে ঘর থেকে টেনে বের করে আনে। এরপর অমানুষিক মারধর, মাথায় গুলি চালানো এবং শেষে বড় পাথর দিয়ে থেঁতলে তাঁকে হত্যা করা হয়। বর্ণবাদী ঘৃণার এমন অন্ধ রূপ দেখে স্তম্ভিত স্থানীয় জনতা।
মৃত্যুতেও হার মানেনি প্রেম: লাশের সঙ্গে বিয়ে
প্রেমিকের মৃত্যুর খবর শুনেই আঁচল ছুটে যান সক্ষমের বাড়িতে। শেষকৃত্যের আয়োজনের মধ্যেই সমাজ ও প্রথাকে উপেক্ষা করে তিনি মৃত প্রেমিকের কপালে হাত বুলিয়ে নিজের কপালে সিঁদুর পরেন। লাশের সামনে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলে স্তব্ধ হয়ে যান।
কাঁদতে কাঁদতে প্রেমিকা আঁচল দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন: “সক্ষম বেঁচে নেই কিন্তু আমাদের ভালোবাসা বেঁচে আছে। আমার পরিবার হেরেছে। আমি এই বাড়িতেই সক্ষমের স্ত্রী হয়ে থাকব।”
খুনিদের ফাঁসির দাবিতে জনতা সোচ্চার
আঁচলের অশ্রুসিক্ত শপথ দ্রুতই গণদাবিতে পরিণত হয়। তিনি তার প্রেমিকের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ফুঁসে উঠেছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আঁচলের বাবা-ভাইসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা আবারও ভারতে জাতপাত ও ঘৃণার রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সর্বাধিক পঠিত

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে যশোরে মোটরসাইকেল ঠেলে এনসিপির ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ

প্রেমিকের মৃতদেহকেই বিয়ে করে খুনিদের ফাঁসি চাইলেন প্রেমিকা

আপডেট: ০৪:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

: উচ্চবর্ণের মেয়ের প্রেমে পড়ার ‘অপরাধে’ নিচু জাতের যুবক প্রেমিক সক্ষম তাঁতী (২০)-কে নৃশংসভাবে খুন করার পর এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিলেন প্রেমিকা আঁচল। হত্যার পর প্রেমিকের নিথর দেহের পায়ের কাছে বসে সিঁদুর পরে বিয়ে সম্পন্ন করলেন তিনি। সমাজের রক্তচক্ষু ও বর্ণবাদী ঘৃণার বিরুদ্ধে এটি যেন এক নীরব বিদ্রোহ।
মহারাষ্ট্রের নান্দেদে তিন বছরের এই প্রেমকে আঁচলের পরিবার মেনে নেয়নি শুধু সক্ষম ‘নিচু’ জাতের ছেলে হওয়ায়।
জাত-পিশাচদের হাতে নির্মম খুন
জানা যায়, সক্ষম ও আঁচল গোপনে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আঁচলের বাবা ও ভাইরা সেই খবর পেয়ে সক্ষমকে ঘর থেকে টেনে বের করে আনে। এরপর অমানুষিক মারধর, মাথায় গুলি চালানো এবং শেষে বড় পাথর দিয়ে থেঁতলে তাঁকে হত্যা করা হয়। বর্ণবাদী ঘৃণার এমন অন্ধ রূপ দেখে স্তম্ভিত স্থানীয় জনতা।
মৃত্যুতেও হার মানেনি প্রেম: লাশের সঙ্গে বিয়ে
প্রেমিকের মৃত্যুর খবর শুনেই আঁচল ছুটে যান সক্ষমের বাড়িতে। শেষকৃত্যের আয়োজনের মধ্যেই সমাজ ও প্রথাকে উপেক্ষা করে তিনি মৃত প্রেমিকের কপালে হাত বুলিয়ে নিজের কপালে সিঁদুর পরেন। লাশের সামনে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলে স্তব্ধ হয়ে যান।
কাঁদতে কাঁদতে প্রেমিকা আঁচল দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন: “সক্ষম বেঁচে নেই কিন্তু আমাদের ভালোবাসা বেঁচে আছে। আমার পরিবার হেরেছে। আমি এই বাড়িতেই সক্ষমের স্ত্রী হয়ে থাকব।”
খুনিদের ফাঁসির দাবিতে জনতা সোচ্চার
আঁচলের অশ্রুসিক্ত শপথ দ্রুতই গণদাবিতে পরিণত হয়। তিনি তার প্রেমিকের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ফুঁসে উঠেছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আঁচলের বাবা-ভাইসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা আবারও ভারতে জাতপাত ও ঘৃণার রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।