০৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দরে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: দুর্নীতি ও চোরাচালান বন্ধের উদ্যোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫৯

বেনাপোল স্থলবন্দরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে এবার দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বন্দরের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার পাশাপাশি এই দুই ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করবেন।
যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠির আদেশে গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে এই দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম।
নিয়োগপত্র সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেনাপোল স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট পদায়নের আগ পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে কার্যকর করার লক্ষ্যে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে অস্থায়ীভাবে এই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ দেওয়া হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরে প্রথম থেকেই নানা অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি পণ্য পাচার আরও বাড়িয়েছে, যারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির বলে পরিচিত। এর আগে আমদানি পণ্য পাচারকারীরা বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী এক আনসার সদস্যকে হাতুড়ি পেটা করে হত্যা করেছিল। অনিয়ম বন্ধে বন্দরে ৩টি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় তিন শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনিয়ম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আবেদন জানালে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে বন্দর এলাকা থেকে একটি ভারতীয় ট্রাকের পণ্য গোপনে বাংলাদেশি ট্রাকে লোড করা হয়। পরে ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৫৬৬) বেনাপোল বন্দরের বাইপাস সড়কের ওপর থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি আটক করে। ট্রাকটি তল্লাশি করে ১ হাজার ৪৭৬ পিস শাড়ি, ২১৫ পিস থ্রি-পিস, মোটরসাইকেলের দুটি টায়ার, ১০ হাজার ৬৯৩ পিস ওষুধ এবং ৭৪ হাজার ৪৫৫ পিস কসমেটিক্স ক্রিম জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা। এছাড়াও, গত ২৩ সেপ্টেম্বরে কাগজপত্র ছাড়া একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আটক হয় এবং বিজিবি কর্তৃক প্রতিনিয়ত বন্দর এলাকায় চোরাচালান পণ্য জব্দ হচ্ছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ায় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। যেকোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডে বিচারকার্য সহজ ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বন্দরের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে অনিয়ম ও দুর্নীতিরোধে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, এর ফলে অবৈধ কাজ ও চোরাচালান রোধে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। বন্দরের ভেতরে চুরি, বহিরাগত প্রবেশ এবং কাগজপত্রবিহীন পণ্য প্রবেশরোধে বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটরা কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বেনাপোল স্থলবন্দরে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: দুর্নীতি ও চোরাচালান বন্ধের উদ্যোগ

আপডেট: ১২:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

বেনাপোল স্থলবন্দরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে এবার দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বন্দরের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার পাশাপাশি এই দুই ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করবেন।
যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠির আদেশে গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে এই দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম।
নিয়োগপত্র সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেনাপোল স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট পদায়নের আগ পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে কার্যকর করার লক্ষ্যে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে অস্থায়ীভাবে এই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ দেওয়া হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরে প্রথম থেকেই নানা অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি পণ্য পাচার আরও বাড়িয়েছে, যারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির বলে পরিচিত। এর আগে আমদানি পণ্য পাচারকারীরা বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী এক আনসার সদস্যকে হাতুড়ি পেটা করে হত্যা করেছিল। অনিয়ম বন্ধে বন্দরে ৩টি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় তিন শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনিয়ম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আবেদন জানালে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে বন্দর এলাকা থেকে একটি ভারতীয় ট্রাকের পণ্য গোপনে বাংলাদেশি ট্রাকে লোড করা হয়। পরে ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৫৬৬) বেনাপোল বন্দরের বাইপাস সড়কের ওপর থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি আটক করে। ট্রাকটি তল্লাশি করে ১ হাজার ৪৭৬ পিস শাড়ি, ২১৫ পিস থ্রি-পিস, মোটরসাইকেলের দুটি টায়ার, ১০ হাজার ৬৯৩ পিস ওষুধ এবং ৭৪ হাজার ৪৫৫ পিস কসমেটিক্স ক্রিম জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা। এছাড়াও, গত ২৩ সেপ্টেম্বরে কাগজপত্র ছাড়া একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আটক হয় এবং বিজিবি কর্তৃক প্রতিনিয়ত বন্দর এলাকায় চোরাচালান পণ্য জব্দ হচ্ছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ায় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। যেকোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডে বিচারকার্য সহজ ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বন্দরের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে অনিয়ম ও দুর্নীতিরোধে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, এর ফলে অবৈধ কাজ ও চোরাচালান রোধে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। বন্দরের ভেতরে চুরি, বহিরাগত প্রবেশ এবং কাগজপত্রবিহীন পণ্য প্রবেশরোধে বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটরা কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।