০৩:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

বিউটি সেলুনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার, পুনেতে উদ্ধার দুই বাংলাদেশি যুবতী

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:২৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫৭

ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি যুবতীকে পুনে পুলিশ উদ্ধার করেছে। বিউটি সেলুনে ভালো বেতনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হলেও, তারা মূলত যৌন পাচারকারী চক্রের হাতে পড়েছিলেন। ওই দুই যুবতী পুনে শহরে পৌঁছানোর পর তাদেরকে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় নামানো হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাচারচক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত রাজু পাটিল নামে ধনকাওয়াড়ি এলাকার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, তার স্ত্রীও এই অপরাধে জড়িত এবং তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার ভারতী বিদ্যাপীঠ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর বিভিন্ন ধারায় এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার এক নারী পুনে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানান যে, তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক স্বপ্নিল পাটিলের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে কাত্রাজ এলাকা থেকে ওই নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ২২ বছর বয়সী ওই নারী বাংলাদেশের নাগরিক। দালালচক্র তাকে বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে আসে। এরপর তাকে পুনেতে এনে প্রায় দুই বছর ধরে যৌন পাচারকারী চক্রের হাতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অবশেষে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি সাহস করে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন।
উদ্ধারের পর ওই নারী পুলিশকে জানান, আরও এক বাংলাদেশি নারীকে প্রায় এক মাস আগে একইভাবে পাচার করে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে সিনিয়র পুলিশ পরিদর্শক রাহুলকুমার খিলারের নেতৃত্বে আরেকটি দল আমবেগাঁও পাঠার এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ২০ বছর বয়সী দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করে।
পরিদর্শক খিলার বলেন, দুই নারীকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয়। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যে এক ভুক্তভোগী নারীকে তার ফ্ল্যাটে আটকে রেখেছিল। আদালত তাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে এই নারীদের ভারতে এনে স্থানীয় যৌন পাচার চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিউটি সেলুনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার, পুনেতে উদ্ধার দুই বাংলাদেশি যুবতী

আপডেট: ০৬:২৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি যুবতীকে পুনে পুলিশ উদ্ধার করেছে। বিউটি সেলুনে ভালো বেতনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হলেও, তারা মূলত যৌন পাচারকারী চক্রের হাতে পড়েছিলেন। ওই দুই যুবতী পুনে শহরে পৌঁছানোর পর তাদেরকে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় নামানো হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাচারচক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত রাজু পাটিল নামে ধনকাওয়াড়ি এলাকার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, তার স্ত্রীও এই অপরাধে জড়িত এবং তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার ভারতী বিদ্যাপীঠ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর বিভিন্ন ধারায় এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার এক নারী পুনে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানান যে, তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক স্বপ্নিল পাটিলের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে কাত্রাজ এলাকা থেকে ওই নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ২২ বছর বয়সী ওই নারী বাংলাদেশের নাগরিক। দালালচক্র তাকে বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে আসে। এরপর তাকে পুনেতে এনে প্রায় দুই বছর ধরে যৌন পাচারকারী চক্রের হাতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অবশেষে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি সাহস করে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন।
উদ্ধারের পর ওই নারী পুলিশকে জানান, আরও এক বাংলাদেশি নারীকে প্রায় এক মাস আগে একইভাবে পাচার করে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে সিনিয়র পুলিশ পরিদর্শক রাহুলকুমার খিলারের নেতৃত্বে আরেকটি দল আমবেগাঁও পাঠার এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ২০ বছর বয়সী দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করে।
পরিদর্শক খিলার বলেন, দুই নারীকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয়। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যে এক ভুক্তভোগী নারীকে তার ফ্ল্যাটে আটকে রেখেছিল। আদালত তাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে এই নারীদের ভারতে এনে স্থানীয় যৌন পাচার চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।