০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

পাবনায় বদলির সময় সরকারি কোয়ার্টারের দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার অভিযোগ উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৬২

বদলির সময় সরকারি কোয়ার্টারের দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পাবনা গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা শহরের সরকারি গণপূর্ত কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত ভবনটি কিছুদিন আগেও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাস বদলি হওয়ার পর দরজা-জানালা খুলে নেওয়ায় স্থাপনাটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কোয়ার্টারের ভেতরে কোনো আসবাবপত্র নেই, এমনকি জানালায় কাঠের ফ্রেম পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। এলাকাবাসীর ধারণা, বদলির আগে ইব্রাহিম বিশ্বাস নিজেই এসব জিনিসপত্র খুলে নিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাসকে প্রায় ছয় মাস আগে পাবনা থেকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়। কিন্তু বদলির পরও তিনি সরকারি কোয়ার্টারের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি অপসারণ করে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা এবিএম ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। একজন প্রকৌশলী যদি নিজেই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কী শিখবে? বিষয়টি প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত।’
আরেক বাসিন্দা কমরেড জাকির হোসেন এই ঘটনাকে ‘দায়িত্বের স্পষ্ট অপব্যবহার’ উল্লেখ করে বলেন, ‘শুধু দরজা-জানালা নয়, এর পেছনে আরও অনিয়ম থাকতে পারে। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার বিষয়টি সত্য, তবে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছিল। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় স্থাপন করা হবে।’
তবে এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান তড়িঘড়ি করে অফিস ত্যাগ করেন।
এ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির শুধু বলেন, ‘সরকারি কোয়ার্টারের দরজা-জানালা দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় মেরামত করা হবে।’
এদিকে, সরকারি সম্পত্তি খুলে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি স্থাপনা ও সম্পত্তি রক্ষায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পাবনায় বদলির সময় সরকারি কোয়ার্টারের দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার অভিযোগ উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

আপডেট: ০৬:০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

বদলির সময় সরকারি কোয়ার্টারের দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পাবনা গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা শহরের সরকারি গণপূর্ত কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত ভবনটি কিছুদিন আগেও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাস বদলি হওয়ার পর দরজা-জানালা খুলে নেওয়ায় স্থাপনাটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কোয়ার্টারের ভেতরে কোনো আসবাবপত্র নেই, এমনকি জানালায় কাঠের ফ্রেম পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। এলাকাবাসীর ধারণা, বদলির আগে ইব্রাহিম বিশ্বাস নিজেই এসব জিনিসপত্র খুলে নিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাসকে প্রায় ছয় মাস আগে পাবনা থেকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়। কিন্তু বদলির পরও তিনি সরকারি কোয়ার্টারের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি অপসারণ করে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা এবিএম ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। একজন প্রকৌশলী যদি নিজেই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কী শিখবে? বিষয়টি প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত।’
আরেক বাসিন্দা কমরেড জাকির হোসেন এই ঘটনাকে ‘দায়িত্বের স্পষ্ট অপব্যবহার’ উল্লেখ করে বলেন, ‘শুধু দরজা-জানালা নয়, এর পেছনে আরও অনিয়ম থাকতে পারে। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার বিষয়টি সত্য, তবে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছিল। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় স্থাপন করা হবে।’
তবে এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান তড়িঘড়ি করে অফিস ত্যাগ করেন।
এ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির শুধু বলেন, ‘সরকারি কোয়ার্টারের দরজা-জানালা দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় মেরামত করা হবে।’
এদিকে, সরকারি সম্পত্তি খুলে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি স্থাপনা ও সম্পত্তি রক্ষায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।