যশোর শহরের দড়াটানার ভৈরব নদের তীর দখলমুক্ত করতে এবার যৌথভাবে অভিযান শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় এবং এখনও তা চলছে। সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে অংশ নিয়েছেন যশোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে সীমানা পিলার বসানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দেওয়ার কাজও চলছে। এর আগে পৌরসভা থেকে দফায় দফায় অভিযান চালানো হলেও দড়াটানার অংশ পুরোপুরি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অভিযানের শুরুতে ভৈরব হোটেলের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ব্রিজের দুই পাশের ফুটপাত এবং পাউবোর জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ ক্ষুদ্র দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দলটি ভৈরব হোটেলের গা-ঘেঁষে নদীর পাড় এলাকায় যায়। সেখানে দেখা যায়, ভৈরব হোটেলসহ আশপাশের কয়েকটি হাসপাতাল সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভৈরবপাড়ে টং দোকান বসিয়ে জায়গা দখল করে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থানে সন্ধ্যার পর থেকে আড্ডা ও মাদকসেবনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে। পরে অভিযানিক দল এই দোকানগুলোও ভেঙে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালের পেছনের অংশে নদীর জায়গা দখল করে জেনারেটর কক্ষ বা দোকান ভাড়া দিয়ে রাখার বিষয়টিও নজরে আসে। এসব স্থাপনা দ্রুত অপসরণের জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
পরে ভৈরব চত্বরের আশপাশের ফুটপাতের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। বিপরীত দিকে নদীর গা-ঘেঁষে গড়ে ওঠা রাজধানী হোটেলের সামনের অংশ ও জনি হোটেলের বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলা হয় এবং সরকারি জায়গায় থাকা জনি হোটেলের সিঁড়িও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময় নদীর পাড়ে অবস্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পরিচালিত ফরমালিনমুক্ত সবজি বিক্রির স্টলটিও ভেঙে দেওয়া হয়।
উচ্ছেদের সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই তাদের দোকান ভেঙে ফেলেছে। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তারা পুনর্বাসনের ব্যবস্থারও দাবি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, একাধিকবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও কেউ কর্ণপাত করেনি। বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা অভিযানে নেমেছি। তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে কাঁটাতার দিয়ে নদীর অংশ ঘিরে ফেলা হবে। পরবর্তীতে সেখানে বৃক্ষরোপণ এবং পৌরবাসীর জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। অভিযান সবে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে ভৈরব চত্বরের বিপরীত পাশের নদীর জায়গাগুলো সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মেপে দখলমুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সকল দখলদারকে স্বেচ্ছায় নদীর জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
০৩:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
ভৈরবপাড় দখলমুক্ত করতে এবার যৌথ অভিযান শুরু, দেওয়া হচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৪:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- ৫৬০
সর্বাধিক পঠিত


























