০২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

যশোরে ফ্ল্যাটে চুরি: সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পরও গহনা ও আইপ্যাড ফেরত না দেওয়ায় গৃহকর্মী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫৮

যশোরের পোস্টঅফিস পাড়ার একটি ফ্ল্যাটে কেউ না থাকার সুযোগে সোনার গহনা ও একটি আইপ্যাড চুরির অভিযোগ উঠেছে এক নারী গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে। চুরির এই ঘটনা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ার পর গৃহকর্মী রাজিয়া পারভীন নীলা চুরি করার বিষয়টি স্বীকারও করেছিলেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, পরে খোয়া যাওয়া মালামাল ফেরত না দিয়ে তিনি নানা টালবাহানা ও হত্যাসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে গৃহকর্তা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে গৃহকর্মী রাজিয়া পারভীন নীলা ও তার স্বামী জসিম উদ্দিনকে, যারা চাঁচড়া বেড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মন্ডল অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় বাদী মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি পোস্টঅফিস পাড়ার একটি বিল্ডিংয়ে চারতলায় ভাড়া থাকেন এবং দেড় বছর ধরে নীলা তার বাড়িতে কাজ করছেন। গত পহেলা সেপ্টেম্বর তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন। বাড়ির এক সেট চাবি নীলার কাছে ছিল। ওই দিন রাত ১১টায় বাসায় ফিরে তিনি দেখেন ঘরের ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা। সেখান থেকে সোনার চুড়ি, কানের দুল ও চেইনসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের গহনা ও একটি আইপ্যাড খোয়া গেছে।
পরে ঘরের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে যে নীলা ঘরে ঢুকে কৌশলে এসব চুরি করে নিয়ে যান। ২ সেপ্টেম্বর নীলা বাড়িতে কাজ করতে এলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানোর পর তিনি ঘটনা স্বীকার করেন। এরপর স্থানীয়রা একত্রিত হলে নীলার স্বামী জসিমও সেখানে আসেন। একপর্যায়ে নীলা ও জসিম লিখিতভাবে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেন যে, এক মাসের মধ্যে তারা খোয়া যাওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ টাকা ফেরত দেবেন।
কিন্তু এক মাস পার হলেও তারা টাকা ফেরত দেননি। উল্টো তারা নানাভাবে মনিরুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে মনির আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী রুহিন বালুজ বলেন, “নীলা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং আসামিরা মনিরুলকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।”

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

যশোরে ফ্ল্যাটে চুরি: সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পরও গহনা ও আইপ্যাড ফেরত না দেওয়ায় গৃহকর্মী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: ০৮:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

যশোরের পোস্টঅফিস পাড়ার একটি ফ্ল্যাটে কেউ না থাকার সুযোগে সোনার গহনা ও একটি আইপ্যাড চুরির অভিযোগ উঠেছে এক নারী গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে। চুরির এই ঘটনা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ার পর গৃহকর্মী রাজিয়া পারভীন নীলা চুরি করার বিষয়টি স্বীকারও করেছিলেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, পরে খোয়া যাওয়া মালামাল ফেরত না দিয়ে তিনি নানা টালবাহানা ও হত্যাসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে গৃহকর্তা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে গৃহকর্মী রাজিয়া পারভীন নীলা ও তার স্বামী জসিম উদ্দিনকে, যারা চাঁচড়া বেড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মন্ডল অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় বাদী মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি পোস্টঅফিস পাড়ার একটি বিল্ডিংয়ে চারতলায় ভাড়া থাকেন এবং দেড় বছর ধরে নীলা তার বাড়িতে কাজ করছেন। গত পহেলা সেপ্টেম্বর তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন। বাড়ির এক সেট চাবি নীলার কাছে ছিল। ওই দিন রাত ১১টায় বাসায় ফিরে তিনি দেখেন ঘরের ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা। সেখান থেকে সোনার চুড়ি, কানের দুল ও চেইনসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের গহনা ও একটি আইপ্যাড খোয়া গেছে।
পরে ঘরের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে যে নীলা ঘরে ঢুকে কৌশলে এসব চুরি করে নিয়ে যান। ২ সেপ্টেম্বর নীলা বাড়িতে কাজ করতে এলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানোর পর তিনি ঘটনা স্বীকার করেন। এরপর স্থানীয়রা একত্রিত হলে নীলার স্বামী জসিমও সেখানে আসেন। একপর্যায়ে নীলা ও জসিম লিখিতভাবে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেন যে, এক মাসের মধ্যে তারা খোয়া যাওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ টাকা ফেরত দেবেন।
কিন্তু এক মাস পার হলেও তারা টাকা ফেরত দেননি। উল্টো তারা নানাভাবে মনিরুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে মনির আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী রুহিন বালুজ বলেন, “নীলা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং আসামিরা মনিরুলকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।”