১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাউফলে বিআরডিবির মাঠ সংগঠকের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

পটুয়াখালীর বাউফলে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে তদন্তের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিআরডিবি সূত্রে জানা গেছে, দারিদ্র্য নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাইদুর রহমান নাজমুল। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা অর্থ অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরপর দুটি নোটিশ দেওয়ার পরও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় ১২ জানুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুর রহমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের ১২টি সমিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সদস্যদের পাস বইয়ের তথ্যের সঙ্গে অফিসের হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। তদন্তে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে মাঠ সংগঠক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের রেফারেন্স এবং বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সুপারিশে তিনি চাকরি পেয়েছিলেন।

তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিআরডিবির উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাঠ সংগঠক সাইদুরের নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন।

বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০১৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান মামলায় আসামি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারি বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা পাওনা থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “টাকা পাওনা আছে, আমি পরিশোধ করে দেব। হেড অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অর্থের গরমিলের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাউফল বিআরডিবি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা (ইরেসপো) নাজমুন নাহার ইরানি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক হাসানুল হক মোল্লা বলেন, “বিষয়টি হেড অফিস সরাসরি মনিটরিং করছে। পরে জেনেছি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ইরেসপো হেড অফিসের উপপ্রকল্প পরিচালক এ এস এম সোলেমান বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও অভিযুক্তের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে তদন্তের সুপারিশ অনুযায়ী কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

দেড় বছরেও শেষ হয়নি ডিপিডিসির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েতের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান

বাউফলে বিআরডিবির মাঠ সংগঠকের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে

আপডেট: ০৯:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফলে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে তদন্তের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিআরডিবি সূত্রে জানা গেছে, দারিদ্র্য নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাইদুর রহমান নাজমুল। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা অর্থ অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরপর দুটি নোটিশ দেওয়ার পরও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় ১২ জানুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুর রহমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের ১২টি সমিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সদস্যদের পাস বইয়ের তথ্যের সঙ্গে অফিসের হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। তদন্তে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে মাঠ সংগঠক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের রেফারেন্স এবং বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সুপারিশে তিনি চাকরি পেয়েছিলেন।

তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিআরডিবির উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাঠ সংগঠক সাইদুরের নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন।

বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০১৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান মামলায় আসামি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারি বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা পাওনা থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “টাকা পাওনা আছে, আমি পরিশোধ করে দেব। হেড অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অর্থের গরমিলের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাউফল বিআরডিবি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা (ইরেসপো) নাজমুন নাহার ইরানি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক হাসানুল হক মোল্লা বলেন, “বিষয়টি হেড অফিস সরাসরি মনিটরিং করছে। পরে জেনেছি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

ইরেসপো হেড অফিসের উপপ্রকল্প পরিচালক এ এস এম সোলেমান বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও অভিযুক্তের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে তদন্তের সুপারিশ অনুযায়ী কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।