জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই নির্দেশ দেন।
সমাবেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘ডার্বি নাসীর’ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অযাচিত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এমদাদ হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন এনসিপির তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। বিএনপি নেতার মতে, প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে দেওয়া এই ধরনের বক্তব্য সরাসরি ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র শামিল।
এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “শুধু নাসীরই নয়, এনসিপির নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা রাজনীতির পরিবেশকে বিনষ্ট করছে। তাদের এখনই প্রতিহত করতে না পারলে দিন দিন তাদের আস্ফালন বেড়ে যাবে। তাই তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।”
সমাবেশ শেষে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির এই নেতা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যেসব আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। এসব বক্তব্যের কারণে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ মূল দল ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের ‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে’। এনসিপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সমস্ত দায়ভার এনসিপিকেই বহন করতে হবে।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপি একটি মিছিল বের করে। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেন যে, তাঁদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ককটেল সম্পর্কিত ওই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হেফাজতে নিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার আহ্বান জানান।
এই ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যকার রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বিএনপির নেতারা পাটওয়ারীর বক্তব্যকে রাষ্ট্রবিরোধী এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, অন্যদিকে এনসিপি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার মতো নির্দেশ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সহিংস আচরণের উস্কানি দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।
এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত সিলেট বিএনপির নেতার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এনসিপি বা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




















