১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে খেলাধুলার বিরোধে ৮ বছরের শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবল ও স্ত্রী বিরুদ্ধে।

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

নাটোরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আট বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. মাহমুদুল হাসান নাটোর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনাটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটোর পৌরসভার হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ঘটেছে বলে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ।

অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত। তিনি শিশুটির পরিবারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসায় পিকনিকের আয়োজন করেন। এ সময় দুই শিশু খেলাধুলা করতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় শিশুর মা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন সকালে কনস্টেবল শাকিল শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তার স্ত্রী মোছা. নাহরিনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শিশুটির পরিবারের দাবি, পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং শিশুটিকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষের ভেতরে নাহরিন শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল ধরে রাখেন এবং শাকিল ধারালো বটি দিয়ে ওই আঙুলে একাধিকবার কোপ দেন।

এতে শিশুটির আঙুলে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবার জানিয়েছে, শিশুটি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান বলেন, তাঁর শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে শিশুটির পরিবারের আরও দাবি, আঙুল কাটার ঘটনার পর কনস্টেবল শাকিল শিশুটির বিরুদ্ধে নাটোর পুলিশ সুপারের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।

তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না কিংবা এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, আট বছর বয়সী কোনো শিশুর ধর্ষণের ঘটনা বা এ-সংক্রান্ত কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

অভিযুক্ত কনস্টেবল শাকিলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা ‘পরিকল্পিত’: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

নাটোরে খেলাধুলার বিরোধে ৮ বছরের শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবল ও স্ত্রী বিরুদ্ধে।

আপডেট: ১০:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আট বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. মাহমুদুল হাসান নাটোর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনাটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটোর পৌরসভার হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ঘটেছে বলে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ।

অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত। তিনি শিশুটির পরিবারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসায় পিকনিকের আয়োজন করেন। এ সময় দুই শিশু খেলাধুলা করতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় শিশুর মা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন সকালে কনস্টেবল শাকিল শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তার স্ত্রী মোছা. নাহরিনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শিশুটির পরিবারের দাবি, পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং শিশুটিকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষের ভেতরে নাহরিন শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল ধরে রাখেন এবং শাকিল ধারালো বটি দিয়ে ওই আঙুলে একাধিকবার কোপ দেন।

এতে শিশুটির আঙুলে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবার জানিয়েছে, শিশুটি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান বলেন, তাঁর শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে শিশুটির পরিবারের আরও দাবি, আঙুল কাটার ঘটনার পর কনস্টেবল শাকিল শিশুটির বিরুদ্ধে নাটোর পুলিশ সুপারের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।

তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না কিংবা এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, আট বছর বয়সী কোনো শিশুর ধর্ষণের ঘটনা বা এ-সংক্রান্ত কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

অভিযুক্ত কনস্টেবল শাকিলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।