১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বাড়ছে খেলাপি ঋণ, তিন মাসে বেড়েছে ৫৬২ কোটি টাকা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

ব্যাংক খাতের পর এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণের চাপ আরও বাড়ছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ঋণ আদায় এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারার সংকটের মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৬২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে **২৭ হাজার ২৫৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা**। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল **২৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা**। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে **৫৬২ কোটি ৯ লাখ টাকা**।

একই সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে **৭৮ হাজার ১৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা**।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এনবিএফআই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল **২৬ হাজার ২৯২ কোটি ৮২ লাখ টাকা**। মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৩২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল প্রায় **৪০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা**।

অন্যদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক বছর ধরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির ফলে আগে বিভিন্নভাবে আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ এখন হিসাবের মধ্যে আসছে।

এর পাশাপাশি ব্যাংক খাতে তারল্য ও আমানতকারীদের আস্থার সংকটের প্রভাবও পড়েছে এনবিএফআই খাতে। কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকরা আমানত তুলে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

ফলে একদিকে নতুন ঋণ বিতরণ কমেছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণ আদায়েও প্রত্যাশিত গতি নেই। দুই ধরনের চাপ মিলিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এনবিএফআই খাতের সংকটের আলোচনায় বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের অনিয়মের বিষয়টিও সামনে আসছে। তাঁর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও অনিয়মের প্রভাব পড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতকে এর চাপ বহন করতে হচ্ছে।

পি কে হালদার একসময় আভিভা ফিন্যান্স ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে আভিভা ফিন্যান্স বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি **৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়া** শুরু করা হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

– পিপলস লিজিং
– ইন্টারন্যাশনাল লিজিং
– বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
– এফএএস ফাইন্যান্স
– আভিভা ফিন্যান্স
– ফারইস্ট ফাইন্যান্স
– জিএসপি ফাইন্যান্স
– প্রাইম ফাইন্যান্স
– প্রিমিয়ার লিজিং

এর মধ্যে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি ও এফএএস ফাইন্যান্স পি কে হালদারের অনিয়মের কারণে সংকটে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আর আভিভা ফিন্যান্সের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতি আনার জন্য তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

– জিএসপি ফাইন্যান্স
– প্রাইম ফাইন্যান্স
– বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)

অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে রয়েছে, সেগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন পরিচালক এবং আরও দুজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলেও ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য প্রায় **৫ হাজার কোটি টাকা** প্রয়োজন হতে পারে।

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের পরিমাণ **১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা**। এর মধ্যে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ **৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা**। বাকি **১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা** বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের।

সাধারণ আমানতকারীদের সবচেয়ে বেশি অর্থ আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে—প্রায় **১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা**। এরপর আভিভা ফিন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফিন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি ব্যাংক এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং এর প্রভাব এনবিএফআই খাতেও পড়ছে। ব্যাংকগুলোর পুনঃতফসিল, প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হারও কমতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুধু এনবিএফআই নয়, দেশের ব্যাংক খাতেও খেলাপি ঋণের চাপ বড় আকার ধারণ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়ে **৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা** হয়েছে।

ফলে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান—উভয় খাতেই ঋণ আদায়, খেলাপি ঋণ কমানো এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনবিএফআই খাতে নতুন করে খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি সংকটে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ বা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ আদায় ও দীর্ঘদিনের অনিয়মের সমাধান না হলে পুরো আর্থিক খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসির অভিযোগ

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বাড়ছে খেলাপি ঋণ, তিন মাসে বেড়েছে ৫৬২ কোটি টাকা

আপডেট: ১০:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংক খাতের পর এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণের চাপ আরও বাড়ছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ঋণ আদায় এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারার সংকটের মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫৬২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে **২৭ হাজার ২৫৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা**। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল **২৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা**। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে **৫৬২ কোটি ৯ লাখ টাকা**।

একই সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে **৭৮ হাজার ১৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা**।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এনবিএফআই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল **২৬ হাজার ২৯২ কোটি ৮২ লাখ টাকা**। মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৩২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল প্রায় **৪০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা**।

অন্যদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক বছর ধরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির ফলে আগে বিভিন্নভাবে আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ এখন হিসাবের মধ্যে আসছে।

এর পাশাপাশি ব্যাংক খাতে তারল্য ও আমানতকারীদের আস্থার সংকটের প্রভাবও পড়েছে এনবিএফআই খাতে। কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকরা আমানত তুলে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

ফলে একদিকে নতুন ঋণ বিতরণ কমেছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণ আদায়েও প্রত্যাশিত গতি নেই। দুই ধরনের চাপ মিলিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এনবিএফআই খাতের সংকটের আলোচনায় বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের অনিয়মের বিষয়টিও সামনে আসছে। তাঁর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও অনিয়মের প্রভাব পড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতকে এর চাপ বহন করতে হচ্ছে।

পি কে হালদার একসময় আভিভা ফিন্যান্স ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে আভিভা ফিন্যান্স বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি **৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়া** শুরু করা হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

– পিপলস লিজিং
– ইন্টারন্যাশনাল লিজিং
– বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
– এফএএস ফাইন্যান্স
– আভিভা ফিন্যান্স
– ফারইস্ট ফাইন্যান্স
– জিএসপি ফাইন্যান্স
– প্রাইম ফাইন্যান্স
– প্রিমিয়ার লিজিং

এর মধ্যে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি ও এফএএস ফাইন্যান্স পি কে হালদারের অনিয়মের কারণে সংকটে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আর আভিভা ফিন্যান্সের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতি আনার জন্য তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

– জিএসপি ফাইন্যান্স
– প্রাইম ফাইন্যান্স
– বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)

অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে রয়েছে, সেগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন পরিচালক এবং আরও দুজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলেও ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য প্রায় **৫ হাজার কোটি টাকা** প্রয়োজন হতে পারে।

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের পরিমাণ **১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা**। এর মধ্যে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ **৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা**। বাকি **১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা** বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের।

সাধারণ আমানতকারীদের সবচেয়ে বেশি অর্থ আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে—প্রায় **১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা**। এরপর আভিভা ফিন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফিন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি ব্যাংক এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং এর প্রভাব এনবিএফআই খাতেও পড়ছে। ব্যাংকগুলোর পুনঃতফসিল, প্রণোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হারও কমতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুধু এনবিএফআই নয়, দেশের ব্যাংক খাতেও খেলাপি ঋণের চাপ বড় আকার ধারণ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়ে **৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা** হয়েছে।

ফলে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান—উভয় খাতেই ঋণ আদায়, খেলাপি ঋণ কমানো এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনবিএফআই খাতে নতুন করে খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি সংকটে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ বা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ আদায় ও দীর্ঘদিনের অনিয়মের সমাধান না হলে পুরো আর্থিক খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।