বগুড়ার শাজাহানপুরে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানের চালক, হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জিললুর রহমান এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কাভার্ড ভ্যানের চালক ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার রাছেল হাওলাদার (৩৬), হেলপার রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মো. রোকনুজ্জামান (৩৯) এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মকবুল হোসেন (২৫)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল পরিবহনের আড়ালে মাদকের বড় চালান পাচার করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে রংপুরগামী স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের একটি কাভার্ড ভ্যানের ওপর নজরদারি শুরু করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় কাভার্ড ভ্যানটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় পৌঁছালে সেটির গতিরোধ করা হয়। পরে গাড়ির কেবিন ও ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযান শেষে কাভার্ড ভ্যানের চালক রাছেল হাওলাদার, হেলপার মো. রোকনুজ্জামান এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যান ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জিললুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল পরিবহনের আড়ালে ইয়াবার চালানটি পাচার করা হচ্ছিল। তবে এই চালানের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, চালানটির গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর নেপথ্যে কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আসলাম আলী মন্ডল জানান, সাধারণ পার্সেল ও পণ্য পরিবহনের আড়ালে মাদক বহনের অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চালানটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান সাধারণত বিভিন্ন ধরনের পার্সেল ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাদক পাচার করা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য।
উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবার উৎস, চালানের প্রকৃত গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।





















