০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

সিআরএএলইপি প্রকল্পে আউটসোর্সিং নিয়োগে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ, পিডি সনিয়া নওরিনক এর বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জলবায়ু সহনশীল ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআরএএলইপি) আওতায় আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটে জনবল সরবরাহের সুযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পদভেদে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, চাকরিপ্রত্যাশীদের বাছাই, তালিকা প্রস্তুত ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সনিয়া নওরিনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উন্মুক্ত টেন্ডার, তবু নিয়োগে অর্থ দাবির অভিযোগ

টেন্ডার নথি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে CRE_NCS_1001 প্যাকেজের আওতায় পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটের জন্য আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নথিতে টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি ১৩০৮৮২৮ এবং প্রকল্প কোড ২২৪৪২১৯০০ উল্লেখ রয়েছে। ক্রয় পদ্ধতি হিসেবে উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতি (OTM) রাখা হয়েছে। টেন্ডার সিকিউরিটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা এবং ডকুমেন্টের মূল্য ৪ হাজার টাকা। মূল্যায়নে পাসিং পয়েন্ট রাখা হয়েছে ৭০।

কাগজে-কলমে নির্ধারিত নিয়ম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকলেও অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে কিছু পদে নিয়োগের জন্য আগে থেকেই প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় চার বছরের জনবল সরবরাহ

টেন্ডার নথি অনুযায়ী, নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পে জনবল সরবরাহ করতে হবে। সম্ভাব্য সেবা শুরুর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং সমাপ্তির তারিখ ২৯ আগস্ট ২০৩০।

দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থের লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, যদি চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে সত্যিই পদভেদে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ নয়; সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগকারীরা বলছেন, শুধু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নয়, প্রকল্পের অভ্যন্তরের একটি অংশও প্রার্থী বাছাই, তালিকা প্রস্তুত ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে।

এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে—উন্মুক্ত টেন্ডার ও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা থাকলেও যদি কোনো পক্ষ আগে থেকেই প্রার্থী নির্ধারণের চেষ্টা করে, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হবে?

প্রকল্পের জনবল ব্যবস্থাপনায় পিডির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছেন এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ও এখন আলোচনায় এসেছে।

পিডি সনিয়া নওরিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও অভিযোগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালনায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে পিডি সনিয়া নওরিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রকল্পের জনবল নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রার্থী বাছাই, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে, ক্ষীণ কান্না শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

সিআরএএলইপি প্রকল্পে আউটসোর্সিং নিয়োগে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ, পিডি সনিয়া নওরিনক এর বিরুদ্ধে

আপডেট: ০৩:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জলবায়ু সহনশীল ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআরএএলইপি) আওতায় আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটে জনবল সরবরাহের সুযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পদভেদে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, চাকরিপ্রত্যাশীদের বাছাই, তালিকা প্রস্তুত ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সনিয়া নওরিনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উন্মুক্ত টেন্ডার, তবু নিয়োগে অর্থ দাবির অভিযোগ

টেন্ডার নথি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে CRE_NCS_1001 প্যাকেজের আওতায় পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটের জন্য আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নথিতে টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি ১৩০৮৮২৮ এবং প্রকল্প কোড ২২৪৪২১৯০০ উল্লেখ রয়েছে। ক্রয় পদ্ধতি হিসেবে উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতি (OTM) রাখা হয়েছে। টেন্ডার সিকিউরিটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা এবং ডকুমেন্টের মূল্য ৪ হাজার টাকা। মূল্যায়নে পাসিং পয়েন্ট রাখা হয়েছে ৭০।

কাগজে-কলমে নির্ধারিত নিয়ম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকলেও অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে কিছু পদে নিয়োগের জন্য আগে থেকেই প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় চার বছরের জনবল সরবরাহ

টেন্ডার নথি অনুযায়ী, নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পে জনবল সরবরাহ করতে হবে। সম্ভাব্য সেবা শুরুর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং সমাপ্তির তারিখ ২৯ আগস্ট ২০৩০।

দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থের লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, যদি চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে সত্যিই পদভেদে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ নয়; সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগকারীরা বলছেন, শুধু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নয়, প্রকল্পের অভ্যন্তরের একটি অংশও প্রার্থী বাছাই, তালিকা প্রস্তুত ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে।

এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে—উন্মুক্ত টেন্ডার ও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা থাকলেও যদি কোনো পক্ষ আগে থেকেই প্রার্থী নির্ধারণের চেষ্টা করে, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হবে?

প্রকল্পের জনবল ব্যবস্থাপনায় পিডির কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছেন এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ও এখন আলোচনায় এসেছে।

পিডি সনিয়া নওরিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও অভিযোগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালনায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে পিডি সনিয়া নওরিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রকল্পের জনবল নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রার্থী বাছাই, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।