০৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে, ক্ষীণ কান্না শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ছয় বছরের এক শিশুকে। উদ্ধারকারীরা মাটির নিচ থেকে শিশুটির ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনে অভিযান চালিয়ে তাকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নেপালের রসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে পড়ায় ওই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে তিমুরেসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বন্যার পর নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্স (এপিএফ)। শুক্রবার তিমুরে এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও মাটির নিচে জীবিত কারও থাকার সম্ভাবনা খুঁজছিলেন উদ্ধারকারীরা। একপর্যায়ে তাঁরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান।

শব্দের উৎস শনাক্ত করার পর দ্রুত খননকাজ শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় ঘন কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে তিমুরেতে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডু নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধারকারীরা তার অবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন। শনিবার দুপুরের পর আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বর্তমানে শিশুটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা

তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকার পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এপিএফ সদস্যদের প্রশংসা করছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী উদ্ধারকারীদের প্রশংসা করে লিখেছেন, যে দলটি অনুসন্ধান বন্ধ করেনি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। আরেকজন লিখেছেন, যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

এদিকে শিশুটির পরিবারের সন্ধানেও তৎপরতা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির নাম মানিশা মাগার বলে জানানো হয়েছে। কেউ তাকে চিনলে বা তার পরিবারের বিষয়ে তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বন্যায় নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়

নেপালে চলমান বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে ছয় বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ৭৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্যোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।

পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে শত শত কোটি ডলার

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক শ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

শনিবার কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতি ও আর্থিক লোকসানের বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সরকার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করবে।

এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সহায়তার আহ্বান জানান।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নেপালে আশার বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত

১৭ মাসেও তদন্ত হয়নি: রংপুরে ভূমি অধিগ্রহণে ‘সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ

তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে, ক্ষীণ কান্না শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

আপডেট: ০৫:২১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ছয় বছরের এক শিশুকে। উদ্ধারকারীরা মাটির নিচ থেকে শিশুটির ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনে অভিযান চালিয়ে তাকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নেপালের রসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে পড়ায় ওই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে তিমুরেসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বন্যার পর নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্স (এপিএফ)। শুক্রবার তিমুরে এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও মাটির নিচে জীবিত কারও থাকার সম্ভাবনা খুঁজছিলেন উদ্ধারকারীরা। একপর্যায়ে তাঁরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান।

শব্দের উৎস শনাক্ত করার পর দ্রুত খননকাজ শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় ঘন কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে তিমুরেতে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডু নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধারকারীরা তার অবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন। শনিবার দুপুরের পর আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বর্তমানে শিশুটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা

তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকার পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এপিএফ সদস্যদের প্রশংসা করছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী উদ্ধারকারীদের প্রশংসা করে লিখেছেন, যে দলটি অনুসন্ধান বন্ধ করেনি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। আরেকজন লিখেছেন, যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

এদিকে শিশুটির পরিবারের সন্ধানেও তৎপরতা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির নাম মানিশা মাগার বলে জানানো হয়েছে। কেউ তাকে চিনলে বা তার পরিবারের বিষয়ে তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বন্যায় নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়

নেপালে চলমান বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে ছয় বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ৭৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্যোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।

পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে শত শত কোটি ডলার

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক শ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

শনিবার কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতি ও আর্থিক লোকসানের বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সরকার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করবে।

এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সহায়তার আহ্বান জানান।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নেপালে আশার বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।