০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রাজউক জোন-৪ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ইমারত পরিদর্শক সোহাগকে নিয়ে প্রশ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪ এলাকায় নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সুযোগ করে দেওয়া, নোটিশ ও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমকে অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার নাম উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন দালাল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সোহাগ মিয়া একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভবনের নকশা, ছাড়পত্র, নোটিশ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জোন-৪-এর আওতাধীন গুলশান এভিনিউ রোডের পূর্ব পাশ, প্রগতি সরণির পূর্ব পাশ, বাড্ডার আনন্দনগর, ডিআইটি প্রজেক্ট, আদর্শ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় নকশার বাইরে ভবনের অতিরিক্ত অংশ নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভবন মালিক ও ডেভেলপার।

অভিযোগ রয়েছে, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। কখনো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভবনের অনিয়মিত অংশ ভেঙে দেওয়া কিংবা বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়া হয়। পরে অর্থের সমঝোতা হলে সেই ভবনে আবারও নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উত্তর বাড্ডার সাঈদ নগর সি ব্লকের একটি ভবনকে সম্প্রতি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আংশিক ভেঙে দেওয়া এবং বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন পর ওই ভবনে পাশের ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

ভবনটির একাংশের মালিক শামিম দাবি করেন, সোহাগ মিয়ার সঙ্গে তিন লাখ টাকায় সমঝোতার পর তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই ঘটনায় নকশা দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও ওঠে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়া। তার দাবি, তিনি কোনো ধরনের ঘুষ বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।

ভবনটিতে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ মিয়া জানান, তিনি বিষয়টি দেখবেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘লাইন কেটে দিয়েছি।’ তবে প্রতিবেদনে পরে সরেজমিনে ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও নির্মাণকাজ চলমান থাকার দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, রাজউকে নকশার অনুমোদনের জন্য আবেদন করার পর সোহাগ মিয়া বিভিন্ন অজুহাতে তাদের হয়রানি করেন। কখনো এক সমস্যা, আবার কখনো অন্য সমস্যা দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয় বলে তার দাবি।

ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে সমস্যার সমাধানের জন্য সোহাগ মিয়াকে ১৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

তবে সোহাগ মিয়া এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।

রাজউক জোন-৪-এর কয়েকটি সূত্রের দাবি, সৎভাবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের তুলনামূলক ছোট এলাকা দেওয়া হলেও সোহাগ মিয়ার মতো কিছু কর্মকর্তাকে বড় এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ আদায় এবং সেই অর্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর আরও দাবি, পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার অধীনে থাকা আরও কয়েকজন ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবনের অনিয়মিত অংশ ভেঙে দেওয়ার পরও অর্থের বিনিময়ে সেগুলো পুনরায় নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে রাজউকের অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

জোন-৪ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও নকশাবহির্ভূত ভবনগুলোর তথ্য চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেও প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগর পরিকল্পনাবিদ আরিফুর রহমানের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বা নকশাবহির্ভূত ভবনের তথ্য গোপন করা হলে সাধারণ মানুষ না জেনে এসব ভবনে বসবাস কিংবা ব্যবসা করতে পারেন। এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা এবং মোবাইল কোর্টের পর পুনরায় নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে রাজউক জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়।

তিনি অভিযোগের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান। পরবর্তীতে অভিযোগ থাকা কয়েকটি ভবনের ঠিকানা তাকে পাঠানো হলেও তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানিয়ে ফোন রেখে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালেহ আহমেদ জাকারিয়া, সোহাগ মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় কার্যধারা শুরুর দাবি জানিয়ে আপিল আবেদন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কয়েক মাসের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি, মোবাইল কোর্টের রেকর্ড, ভবনের নকশা ও অনুমোদনপত্র এবং বিভাগীয় কার্যধারার নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

তবে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, নকশাবহির্ভূত নির্মাণে সুযোগ দেওয়া এবং নোটিশ ও মোবাইল কোর্টকে অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভবন নির্মাণের সঙ্গে জননিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের সুযোগ, মোবাইল কোর্টের পর পুনরায় নির্মাণ, নোটিশ প্রত্যাহার এবং তথ্য গোপনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে, ক্ষীণ কান্না শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

রাজউক জোন-৪ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ইমারত পরিদর্শক সোহাগকে নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট: ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪ এলাকায় নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সুযোগ করে দেওয়া, নোটিশ ও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমকে অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার নাম উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন দালাল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সোহাগ মিয়া একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভবনের নকশা, ছাড়পত্র, নোটিশ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জোন-৪-এর আওতাধীন গুলশান এভিনিউ রোডের পূর্ব পাশ, প্রগতি সরণির পূর্ব পাশ, বাড্ডার আনন্দনগর, ডিআইটি প্রজেক্ট, আদর্শ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় নকশার বাইরে ভবনের অতিরিক্ত অংশ নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভবন মালিক ও ডেভেলপার।

অভিযোগ রয়েছে, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। কখনো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভবনের অনিয়মিত অংশ ভেঙে দেওয়া কিংবা বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়া হয়। পরে অর্থের সমঝোতা হলে সেই ভবনে আবারও নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উত্তর বাড্ডার সাঈদ নগর সি ব্লকের একটি ভবনকে সম্প্রতি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আংশিক ভেঙে দেওয়া এবং বিদ্যুতের মিটার খুলে নেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন পর ওই ভবনে পাশের ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

ভবনটির একাংশের মালিক শামিম দাবি করেন, সোহাগ মিয়ার সঙ্গে তিন লাখ টাকায় সমঝোতার পর তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই ঘটনায় নকশা দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগও ওঠে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমারত পরিদর্শক সোহাগ মিয়া। তার দাবি, তিনি কোনো ধরনের ঘুষ বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।

ভবনটিতে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ মিয়া জানান, তিনি বিষয়টি দেখবেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘লাইন কেটে দিয়েছি।’ তবে প্রতিবেদনে পরে সরেজমিনে ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও নির্মাণকাজ চলমান থাকার দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, রাজউকে নকশার অনুমোদনের জন্য আবেদন করার পর সোহাগ মিয়া বিভিন্ন অজুহাতে তাদের হয়রানি করেন। কখনো এক সমস্যা, আবার কখনো অন্য সমস্যা দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয় বলে তার দাবি।

ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে সমস্যার সমাধানের জন্য সোহাগ মিয়াকে ১৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

তবে সোহাগ মিয়া এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।

রাজউক জোন-৪-এর কয়েকটি সূত্রের দাবি, সৎভাবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের তুলনামূলক ছোট এলাকা দেওয়া হলেও সোহাগ মিয়ার মতো কিছু কর্মকর্তাকে বড় এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ আদায় এবং সেই অর্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর আরও দাবি, পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার অধীনে থাকা আরও কয়েকজন ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবনের অনিয়মিত অংশ ভেঙে দেওয়ার পরও অর্থের বিনিময়ে সেগুলো পুনরায় নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলে রাজউকের অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

জোন-৪ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও নকশাবহির্ভূত ভবনগুলোর তথ্য চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেও প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগর পরিকল্পনাবিদ আরিফুর রহমানের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বা নকশাবহির্ভূত ভবনের তথ্য গোপন করা হলে সাধারণ মানুষ না জেনে এসব ভবনে বসবাস কিংবা ব্যবসা করতে পারেন। এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা এবং মোবাইল কোর্টের পর পুনরায় নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে রাজউক জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়।

তিনি অভিযোগের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান। পরবর্তীতে অভিযোগ থাকা কয়েকটি ভবনের ঠিকানা তাকে পাঠানো হলেও তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানিয়ে ফোন রেখে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালেহ আহমেদ জাকারিয়া, সোহাগ মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় কার্যধারা শুরুর দাবি জানিয়ে আপিল আবেদন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কয়েক মাসের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি, মোবাইল কোর্টের রেকর্ড, ভবনের নকশা ও অনুমোদনপত্র এবং বিভাগীয় কার্যধারার নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

তবে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, নকশাবহির্ভূত নির্মাণে সুযোগ দেওয়া এবং নোটিশ ও মোবাইল কোর্টকে অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভবন নির্মাণের সঙ্গে জননিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের সুযোগ, মোবাইল কোর্টের পর পুনরায় নির্মাণ, নোটিশ প্রত্যাহার এবং তথ্য গোপনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।