১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ভোলায় ঘুষের বিনিময়ে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ বিআরটিএ পরিদর্শক আবু পলাশের বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিয়ম অনুযায়ী ভারী মোটরযানের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির যানবাহনে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ভোলা সার্কেলে এই নিয়ম উপেক্ষা করে ঘুষের বিনিময়ে প্রাইভেটকার চালকদের ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও বাসের মতো ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক আবু পলাশের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি প্রায় ৬ হাজার টাকা ‘স্পিডমানি’ নিয়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার একটি চক্র পরিচালনা করছেন তিনি। এ কাজে দালালদের পাশাপাশি তাঁর ভাই বিপুলও সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট ভোলা সার্কেলে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষায় ১৭৮ জন অংশ নেন। এর মধ্যে ১৩৯ জন অকৃতকার্য হলেও ৩৯ জন উত্তীর্ণ হন। অভিযোগ রয়েছে, উত্তীর্ণদের একটি অংশ ভারী যানবাহন না চালিয়ে প্রাইভেটকার চালিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এমন অন্তত ১০ জনের লার্নার নম্বরের তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে—৩২-১৮৪৯১৮৮২, ৩২-১৮৪৯২৫৩৫, ৩২-১৮৪৯২৫৪০, ৩২-১৮৪৯৫১৫৬, ৩২-১৮৪৯৬৪২৫, ৩২-১৮৪৯৬৭৮৩, ৩২-১৮৪৯৬৮৩৩, ৩২-১৮৪৯৯১৩৯, ৩২-১৭৩৭২০৬৩ ও ৩২-১৮৫৮০১৯৮।

এ ছাড়া ২৮ জুলাই ৮ জন, ২১ জুলাই ১৪ জন এবং ৩০ জুনসহ বিভিন্ন দিনে আরও ৩৭ জনকে একই প্রক্রিয়ায় ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আবু পলাশের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালে শেরপুর সার্কেলে কর্মরত থাকার সময় ঘুষ না দিলে যোগ্য চালকদের অকৃতকার্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

ওই সময় একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বিআরটিএ শেরপুর সার্কেলের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২৩ সালের ৪ মে তাঁকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পর আবু পলাশ প্রশাসন শাখায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ‘লাভজনক’ সার্কেলে পদায়নের চেষ্টা করেন।

২০২৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁকে সিরাজগঞ্জ সার্কেলে বদলি করা হলেও সেখানে যোগ না দিয়ে তদবিরের মাধ্যমে আদেশ বাতিল করানোর অভিযোগ রয়েছে। এরপর একই বছরের মে মাসে ফরিদপুর সার্কেলে বদলি করা হলেও সংবাদ প্রকাশের পর সেই আদেশও বাতিল হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ মার্চ বিআরটিএর উপপরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে তাঁকে ঢাকার সদর কার্যালয় থেকে ভোলা সার্কেলে বদলি করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষের বিনিময়ে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ চালকদের ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়া হলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে প্রকৃত দক্ষ চালকরাও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) বলেন, আবু পলাশের বিরুদ্ধে বারবার অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন শাখার কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি মাঠপর্যায়ের সার্কেলে পদায়ন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব না দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক আবু পলাশের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সর্বাধিক পঠিত

ভোলায় ঘুষের বিনিময়ে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ বিআরটিএ পরিদর্শক আবু পলাশের বিরুদ্ধে

ভোলায় ঘুষের বিনিময়ে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ বিআরটিএ পরিদর্শক আবু পলাশের বিরুদ্ধে

আপডেট: ১১:৪৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিয়ম অনুযায়ী ভারী মোটরযানের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির যানবাহনে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ভোলা সার্কেলে এই নিয়ম উপেক্ষা করে ঘুষের বিনিময়ে প্রাইভেটকার চালকদের ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও বাসের মতো ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক আবু পলাশের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি প্রায় ৬ হাজার টাকা ‘স্পিডমানি’ নিয়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার একটি চক্র পরিচালনা করছেন তিনি। এ কাজে দালালদের পাশাপাশি তাঁর ভাই বিপুলও সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট ভোলা সার্কেলে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষায় ১৭৮ জন অংশ নেন। এর মধ্যে ১৩৯ জন অকৃতকার্য হলেও ৩৯ জন উত্তীর্ণ হন। অভিযোগ রয়েছে, উত্তীর্ণদের একটি অংশ ভারী যানবাহন না চালিয়ে প্রাইভেটকার চালিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এমন অন্তত ১০ জনের লার্নার নম্বরের তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে—৩২-১৮৪৯১৮৮২, ৩২-১৮৪৯২৫৩৫, ৩২-১৮৪৯২৫৪০, ৩২-১৮৪৯৫১৫৬, ৩২-১৮৪৯৬৪২৫, ৩২-১৮৪৯৬৭৮৩, ৩২-১৮৪৯৬৮৩৩, ৩২-১৮৪৯৯১৩৯, ৩২-১৭৩৭২০৬৩ ও ৩২-১৮৫৮০১৯৮।

এ ছাড়া ২৮ জুলাই ৮ জন, ২১ জুলাই ১৪ জন এবং ৩০ জুনসহ বিভিন্ন দিনে আরও ৩৭ জনকে একই প্রক্রিয়ায় ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

আবু পলাশের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালে শেরপুর সার্কেলে কর্মরত থাকার সময় ঘুষ না দিলে যোগ্য চালকদের অকৃতকার্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

ওই সময় একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বিআরটিএ শেরপুর সার্কেলের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২৩ সালের ৪ মে তাঁকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পর আবু পলাশ প্রশাসন শাখায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ‘লাভজনক’ সার্কেলে পদায়নের চেষ্টা করেন।

২০২৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁকে সিরাজগঞ্জ সার্কেলে বদলি করা হলেও সেখানে যোগ না দিয়ে তদবিরের মাধ্যমে আদেশ বাতিল করানোর অভিযোগ রয়েছে। এরপর একই বছরের মে মাসে ফরিদপুর সার্কেলে বদলি করা হলেও সংবাদ প্রকাশের পর সেই আদেশও বাতিল হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ মার্চ বিআরটিএর উপপরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে তাঁকে ঢাকার সদর কার্যালয় থেকে ভোলা সার্কেলে বদলি করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষের বিনিময়ে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ চালকদের ভারী যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়া হলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে প্রকৃত দক্ষ চালকরাও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) বলেন, আবু পলাশের বিরুদ্ধে বারবার অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন শাখার কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি মাঠপর্যায়ের সার্কেলে পদায়ন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব না দেওয়ার পক্ষেও মত দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক আবু পলাশের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।