০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ফাইভ স্টার হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যা, বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর একটি ফাইভ স্টার হোটেলে দুই কন্যাসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৪০ বছর বয়সী এসজি ইমরানকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হোটেল কক্ষ থেকে ইমরানের ১০ ও ৫ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই কক্ষের বাথরুম থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমরানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীকে নিয়ে দাম্পত্য বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বেঙ্গালুরুর ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) জিকে মিথুন কুমার জানান, ইমরান গত রোববার সন্ধ্যায় তার দুই মেয়েকে নিয়ে হোটেলটিতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন সোমবার বিকেল ৪টার দিকে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কক্ষটির দরজায় একাধিকবার নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি।

পরে সন্দেহ হওয়ায় হোটেলকর্মীরা কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে বিছানার ওপর দুই শিশুকন্যার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপর বাথরুমে গিয়ে ইমরানকে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হোটেলের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবিশ্বস্ততার অভিযোগ তুলে তিনি সন্তানদের হত্যা এবং নিজে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ইমরান দাবি করেন, তিনি চাননি তার সন্তানরা এমন একজন মায়ের কাছে বড় হোক। এ কারণেই তিনি সন্তানদের হত্যা করে নিজেও জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।

তবে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ইমরানের আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইমরানের বাড়ি বেঙ্গালুরুর নাগাওয়ারা এলাকায়। ঘটনার বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ইমরান কী পেশায় ছিলেন, তার পারিবারিক পরিস্থিতি কেমন ছিল, স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি কতটা হয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পারিবারিক, আর্থিক বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, ইমরান সুস্থ হয়ে উঠলে তার কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, কক্ষের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।

সর্বাধিক পঠিত

১২ আগস্ট আকাশে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, ২৬ বছর পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে দেখা যাবে মহাজাগতিক দৃশ্য

ফাইভ স্টার হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যা, বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট: ১০:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর একটি ফাইভ স্টার হোটেলে দুই কন্যাসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৪০ বছর বয়সী এসজি ইমরানকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হোটেল কক্ষ থেকে ইমরানের ১০ ও ৫ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই কক্ষের বাথরুম থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমরানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীকে নিয়ে দাম্পত্য বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বেঙ্গালুরুর ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) জিকে মিথুন কুমার জানান, ইমরান গত রোববার সন্ধ্যায় তার দুই মেয়েকে নিয়ে হোটেলটিতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন সোমবার বিকেল ৪টার দিকে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কক্ষটির দরজায় একাধিকবার নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি।

পরে সন্দেহ হওয়ায় হোটেলকর্মীরা কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে বিছানার ওপর দুই শিশুকন্যার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপর বাথরুমে গিয়ে ইমরানকে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হোটেলের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবিশ্বস্ততার অভিযোগ তুলে তিনি সন্তানদের হত্যা এবং নিজে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ইমরান দাবি করেন, তিনি চাননি তার সন্তানরা এমন একজন মায়ের কাছে বড় হোক। এ কারণেই তিনি সন্তানদের হত্যা করে নিজেও জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।

তবে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ইমরানের আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইমরানের বাড়ি বেঙ্গালুরুর নাগাওয়ারা এলাকায়। ঘটনার বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ইমরান কী পেশায় ছিলেন, তার পারিবারিক পরিস্থিতি কেমন ছিল, স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি কতটা হয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পারিবারিক, আর্থিক বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, ইমরান সুস্থ হয়ে উঠলে তার কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, কক্ষের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।