০৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ঘুষ বাণিজ্য, ফাইল আটকে অর্থ আদায় ও সংবাদকর্মীকে হামলার ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

একসময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নাগরিকদের কাছে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রাজউকের মহাখালী জোনে অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি ও নির্মাণ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, তার অধীনস্থ মহাখালী জোনে নির্মাণ পরিদর্শন ও বিভিন্ন অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রমে নিয়মের পরিবর্তে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিনিময়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নিয়মিত তদারকি ও যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্মাণ অনুমোদন, নকশা, পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রেখে পরে অর্থের বিনিময়ে তা দ্রুত নিষ্পত্তির অভিযোগও রয়েছে।

নির্মাণ পরিদর্শকদের একটি অংশ আইন ও বিধিমালা বাস্তবায়নের পরিবর্তে অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন পরিচালক হিসেবে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে তদারকির দায়িত্ব কার এবং অভিযোগগুলো সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলে কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাজউকের কর্মকর্তা মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এক সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার প্রমাণ থাকার দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি নিয়ে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়।

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পরও যদি যথাযথ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবা, অনুমোদন ও নির্মাণ তদারকির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে মহাখালী জোনের গত কয়েক বছরের অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি, নির্মাণ পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের নথি পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে

সর্বাধিক পঠিত

১২ আগস্ট আকাশে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, ২৬ বছর পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে দেখা যাবে মহাজাগতিক দৃশ্য

ঘুষ বাণিজ্য, ফাইল আটকে অর্থ আদায় ও সংবাদকর্মীকে হামলার ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ

আপডেট: ০৪:১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

একসময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নাগরিকদের কাছে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রাজউকের মহাখালী জোনে অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি ও নির্মাণ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, তার অধীনস্থ মহাখালী জোনে নির্মাণ পরিদর্শন ও বিভিন্ন অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রমে নিয়মের পরিবর্তে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিনিময়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নিয়মিত তদারকি ও যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্মাণ অনুমোদন, নকশা, পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রেখে পরে অর্থের বিনিময়ে তা দ্রুত নিষ্পত্তির অভিযোগও রয়েছে।

নির্মাণ পরিদর্শকদের একটি অংশ আইন ও বিধিমালা বাস্তবায়নের পরিবর্তে অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন পরিচালক হিসেবে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে তদারকির দায়িত্ব কার এবং অভিযোগগুলো সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলে কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাজউকের কর্মকর্তা মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এক সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার প্রমাণ থাকার দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি নিয়ে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়।

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পরও যদি যথাযথ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবা, অনুমোদন ও নির্মাণ তদারকির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে মহাখালী জোনের গত কয়েক বছরের অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি, নির্মাণ পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের নথি পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে