০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

‘ভারতে ঘুরতে যাচ্ছি’—বাবার বাড়িতে ছিল শেষ ফোন, পাঁচ বছর পর মরদেহ ছাড়াই উদ্ঘাটিত কান্তা হত্যা রহস্য

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৮

‘ভারতে ঘুরতে যাচ্ছি, আমাদের জন্য দোয়া করবেন’—বাবার বাড়িতে এটিই ছিল মার্জিয়া কান্তার শেষ ফোন। এরপর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। কয়েকদিন পর স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগর পরিবারের সদস্যদের জানান, ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় কান্তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মরদেহ কোথায়, কোথায় দাফন করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। ভারতে নয়, কুয়াকাটার একটি হোটেলকক্ষে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী মার্জিয়া কান্তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিলেন স্বামী সাগর। হত্যার পর মরদেহ বক্স খাটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। দুই দিন পর হোটেল কর্মীরা মরদেহ দেখতে পেলেও ঘটনাটি গোপন রাখতে রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

মরদেহ, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত কিংবা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকা সত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে পাঁচ বছর পর এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ভালোবাসার বিয়ে থেকে ভয়াবহ পরিণতি

পিবিআই সূত্র জানায়, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বাসিন্দা এবং আশুলিয়ার একটি বিউটি পার্লারের মালিক মার্জিয়া কান্তা ভালোবেসে বিয়ে করেন শহিদুল ইসলাম সাগরকে। সংসার জীবনের কিছুদিন পর কান্তা জানতে পারেন, সাগরের আগে আরেকটি বিয়ে ছিল এবং তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে কান্তা বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরে সাগর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন। সবাইকে জানান, স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে যাবেন। কান্তাও পরিবারের সদস্যদের ফোন করে একই কথা বলেছিলেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করে সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় কান্তা মারা গেছেন এবং তিনি একাই দেশে ফিরেছেন। এরপর তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

কান্তার পরিবার কুড়িগ্রামে সাগরের বাড়িতে গেলেও তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় যে, কান্তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে কান্তার বাবা বেলাব থানায় অপহরণ করে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়।

থানা পুলিশ প্রায় তিন মাস তদন্ত করেও কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় আদালতের অনুমতি ও পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।

তদন্তের শুরুতেই পিবিআই দেখতে পায়, মামলায় কোনো মরদেহ, প্রত্যক্ষদর্শী, সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নেই। ফলে তদন্ত পুরোপুরি নির্ভর করে তথ্যপ্রযুক্তি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর।

তদন্তকারীরা কান্তা ও সাগরের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, ল্যাক ও সেল আইডি বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন, ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তারা শরীয়তপুরের একটি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। পরে হোটেলের রেজিস্ট্রার উদ্ধার করে তাদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

সেই সূত্র ধরে তৃতীয় এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার পরিকল্পনা এবং আরও এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পটুয়াখালীতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়।

পরে গ্রেপ্তার হওয়া সাগর জিজ্ঞাসাবাদে জানান, স্ত্রী তার আগের বিয়ে ও পরনারীতে আসক্তির বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইছিলেন। তাই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

প্রথমে শরীয়তপুরে নদীতে ধাক্কা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা থাকলেও সহযোগীর প্রকৃত পরিচয় হোটেল রেজিস্টারে থাকায় ধরা পড়ার আশঙ্কায় তা বাতিল করা হয়। পরে কুয়াকাটার একটি হোটেলে ভুয়া পরিচয়ে উঠে সেখানে শ্বাসরোধ করে কান্তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ বক্স খাটের ভেতরে রেখে সাগর ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় কক্ষটি বন্ধ থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ কক্ষ ভেঙে কাপড়চোপড়, ব্যাগ ও একটি চাপাতি উদ্ধার করলেও খাটের ভেতরে থাকা মরদেহ খুঁজে পায়নি।

দুই দিন পর রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে এক কর্মচারী মরদেহ দেখতে পান। তবে হোটেলের সুনাম রক্ষার অজুহাতে ম্যানেজারের নির্দেশে কর্মচারীরা রাতের আঁধারে মরদেহ মোটরসাইকেলে করে নিয়ে সাগরে ফেলে দেন।পরবর্তীতে পিবিআই হোটেলের দুই মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে। পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

হোটেল রেজিস্ট্রার, জিডি, জব্দকৃত আলামত, ব্যবহৃত কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন দালিলিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পিবিআই হত্যায় সরাসরি জড়িত দুইজন এবং আলামত নষ্টের অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

দীর্ঘ বিচার শেষে আদালত প্রধান আসামি শহিদুল ইসলাম সাগরকে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ভাড়াটে খুনি মামুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হোটেলের মালিক-ম্যানেজারসহ তিনজনকে সাত বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “মরদেহ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমন মামলা খুবই বিরল। প্রযুক্তি, দালিলিক তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের সমন্বয়ে আমরা আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।”

পিবিআই বলছে, এই মামলাটি প্রমাণ করেছে যে, মরদেহ, ময়নাতদন্ত বা প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে হত্যার মতো জটিল অপরাধও আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে তদন্তের প্রাথমিক ধাপে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এমন মামলার রহস্য আরও দ্রুত উদ্ঘাটন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক কারবারি ফয়সাল আটক

‘ভারতে ঘুরতে যাচ্ছি’—বাবার বাড়িতে ছিল শেষ ফোন, পাঁচ বছর পর মরদেহ ছাড়াই উদ্ঘাটিত কান্তা হত্যা রহস্য

আপডেট: ০৪:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

‘ভারতে ঘুরতে যাচ্ছি, আমাদের জন্য দোয়া করবেন’—বাবার বাড়িতে এটিই ছিল মার্জিয়া কান্তার শেষ ফোন। এরপর হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। কয়েকদিন পর স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগর পরিবারের সদস্যদের জানান, ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় কান্তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মরদেহ কোথায়, কোথায় দাফন করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। ভারতে নয়, কুয়াকাটার একটি হোটেলকক্ষে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী মার্জিয়া কান্তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিলেন স্বামী সাগর। হত্যার পর মরদেহ বক্স খাটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। দুই দিন পর হোটেল কর্মীরা মরদেহ দেখতে পেলেও ঘটনাটি গোপন রাখতে রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

মরদেহ, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত কিংবা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকা সত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে পাঁচ বছর পর এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ভালোবাসার বিয়ে থেকে ভয়াবহ পরিণতি

পিবিআই সূত্র জানায়, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বাসিন্দা এবং আশুলিয়ার একটি বিউটি পার্লারের মালিক মার্জিয়া কান্তা ভালোবেসে বিয়ে করেন শহিদুল ইসলাম সাগরকে। সংসার জীবনের কিছুদিন পর কান্তা জানতে পারেন, সাগরের আগে আরেকটি বিয়ে ছিল এবং তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে কান্তা বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরে সাগর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন। সবাইকে জানান, স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে যাবেন। কান্তাও পরিবারের সদস্যদের ফোন করে একই কথা বলেছিলেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করে সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় কান্তা মারা গেছেন এবং তিনি একাই দেশে ফিরেছেন। এরপর তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

কান্তার পরিবার কুড়িগ্রামে সাগরের বাড়িতে গেলেও তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় যে, কান্তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে কান্তার বাবা বেলাব থানায় অপহরণ করে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়।

থানা পুলিশ প্রায় তিন মাস তদন্ত করেও কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় আদালতের অনুমতি ও পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।

তদন্তের শুরুতেই পিবিআই দেখতে পায়, মামলায় কোনো মরদেহ, প্রত্যক্ষদর্শী, সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নেই। ফলে তদন্ত পুরোপুরি নির্ভর করে তথ্যপ্রযুক্তি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর।

তদন্তকারীরা কান্তা ও সাগরের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, ল্যাক ও সেল আইডি বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন, ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তারা শরীয়তপুরের একটি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। পরে হোটেলের রেজিস্ট্রার উদ্ধার করে তাদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

সেই সূত্র ধরে তৃতীয় এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার পরিকল্পনা এবং আরও এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পটুয়াখালীতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়।

পরে গ্রেপ্তার হওয়া সাগর জিজ্ঞাসাবাদে জানান, স্ত্রী তার আগের বিয়ে ও পরনারীতে আসক্তির বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইছিলেন। তাই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

প্রথমে শরীয়তপুরে নদীতে ধাক্কা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা থাকলেও সহযোগীর প্রকৃত পরিচয় হোটেল রেজিস্টারে থাকায় ধরা পড়ার আশঙ্কায় তা বাতিল করা হয়। পরে কুয়াকাটার একটি হোটেলে ভুয়া পরিচয়ে উঠে সেখানে শ্বাসরোধ করে কান্তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ বক্স খাটের ভেতরে রেখে সাগর ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় কক্ষটি বন্ধ থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ কক্ষ ভেঙে কাপড়চোপড়, ব্যাগ ও একটি চাপাতি উদ্ধার করলেও খাটের ভেতরে থাকা মরদেহ খুঁজে পায়নি।

দুই দিন পর রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে এক কর্মচারী মরদেহ দেখতে পান। তবে হোটেলের সুনাম রক্ষার অজুহাতে ম্যানেজারের নির্দেশে কর্মচারীরা রাতের আঁধারে মরদেহ মোটরসাইকেলে করে নিয়ে সাগরে ফেলে দেন।পরবর্তীতে পিবিআই হোটেলের দুই মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে। পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

হোটেল রেজিস্ট্রার, জিডি, জব্দকৃত আলামত, ব্যবহৃত কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন দালিলিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পিবিআই হত্যায় সরাসরি জড়িত দুইজন এবং আলামত নষ্টের অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

দীর্ঘ বিচার শেষে আদালত প্রধান আসামি শহিদুল ইসলাম সাগরকে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ভাড়াটে খুনি মামুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হোটেলের মালিক-ম্যানেজারসহ তিনজনকে সাত বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “মরদেহ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমন মামলা খুবই বিরল। প্রযুক্তি, দালিলিক তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের সমন্বয়ে আমরা আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।”

পিবিআই বলছে, এই মামলাটি প্রমাণ করেছে যে, মরদেহ, ময়নাতদন্ত বা প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে হত্যার মতো জটিল অপরাধও আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে তদন্তের প্রাথমিক ধাপে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এমন মামলার রহস্য আরও দ্রুত উদ্ঘাটন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।