০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে রনি-মাইদুল সিন্ডিকেটে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক | বেনাপোল

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি, ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে অনিয়ম, শুল্ক ফাঁকি এবং পণ্য আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ সৃষ্টি করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। একই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। আগের অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা এবং আমদানি হয়েছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন পণ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি, আমদানি কমে যাওয়া এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি ও ওজন কারচুপির অভিযোগও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু চক্র পণ্যের ওজন পরিবর্তন, মিথ্যা ঘোষণা এবং সাফটা সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে কম শুল্কে পণ্য খালাসের সুযোগ নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এর সঙ্গে বন্দর ও কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি।

বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সাফটা সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কহার গত তিন অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুল্কহার ছিল ৭ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, শুল্কহার বৃদ্ধির পর কিছু অসাধু চক্র নতুন কৌশলে কম শুল্কে পণ্য খালাসের চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি দাপ্তরিক চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুন বন্দরের ৫ নম্বর ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের জন্য একই সময়ে দুটি পৃথক ওজনের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, ওজনের অসঙ্গতি ধরা পড়া চালানটি ছিল সাইকেলের যন্ত্রাংশের। পরে চালানটি আটক করে তদন্ত শুরু করা হয়। তবে এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বন্দরের বিভিন্ন শেডকে কেন্দ্র করে অতীতেও অনিয়ম ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কের পণ্য ভিন্ন ঘোষণার আড়ালে সংরক্ষণ ও খালাসের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিটি অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

গত ১২ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি শেড থেকে বেকিং পাউডার ঘোষণার আড়ালে আনা উচ্চ শুল্কের পণ্য আত্মসাতের একটি ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইভাবে, জুন মাসে আরও কয়েকটি ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক মামলা করেছে, যেখানে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অনিয়ম ঘটতে পারে।

ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবি বলেন, বেনাপোল বন্দর দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আহরণকারী বন্দর। এখানে ওজন নির্ধারণে সামান্য অসঙ্গতিও সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ওজন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ওজনযন্ত্রে কারচুপি বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বলেন, সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ওজন কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা বা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এনটিভির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বেনাপোল বন্দরে রনি-মাইদুল সিন্ডিকেটে রাজস্ব ঘাটতি ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা

আপডেট: ০৬:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | বেনাপোল

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি, ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে অনিয়ম, শুল্ক ফাঁকি এবং পণ্য আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ সৃষ্টি করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। একই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। আগের অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা এবং আমদানি হয়েছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন পণ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি, আমদানি কমে যাওয়া এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি ও ওজন কারচুপির অভিযোগও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু চক্র পণ্যের ওজন পরিবর্তন, মিথ্যা ঘোষণা এবং সাফটা সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে কম শুল্কে পণ্য খালাসের সুযোগ নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এর সঙ্গে বন্দর ও কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি।

বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সাফটা সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কহার গত তিন অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুল্কহার ছিল ৭ শতাংশ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, শুল্কহার বৃদ্ধির পর কিছু অসাধু চক্র নতুন কৌশলে কম শুল্কে পণ্য খালাসের চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি দাপ্তরিক চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুন বন্দরের ৫ নম্বর ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের জন্য একই সময়ে দুটি পৃথক ওজনের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, ওজনের অসঙ্গতি ধরা পড়া চালানটি ছিল সাইকেলের যন্ত্রাংশের। পরে চালানটি আটক করে তদন্ত শুরু করা হয়। তবে এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বন্দরের বিভিন্ন শেডকে কেন্দ্র করে অতীতেও অনিয়ম ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কের পণ্য ভিন্ন ঘোষণার আড়ালে সংরক্ষণ ও খালাসের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিটি অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

গত ১২ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি শেড থেকে বেকিং পাউডার ঘোষণার আড়ালে আনা উচ্চ শুল্কের পণ্য আত্মসাতের একটি ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইভাবে, জুন মাসে আরও কয়েকটি ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক মামলা করেছে, যেখানে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অনিয়ম ঘটতে পারে।

ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবি বলেন, বেনাপোল বন্দর দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আহরণকারী বন্দর। এখানে ওজন নির্ধারণে সামান্য অসঙ্গতিও সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ওজন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ওজনযন্ত্রে কারচুপি বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বলেন, সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ওজন কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা বা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।