০১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানের পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, একই পরিবারের প্রাণ গেল ৩ জনের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় এক দম্পতি রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকার আরেকটি স্থানে দ্বিতীয় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একটি একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে এবং মাটিচাপা পড়ে মারা যান স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫)।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। অনেক নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বারবার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো সেখানে যেতে অনাগ্রহী। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায়ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

বান্দরবানের পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, একই পরিবারের প্রাণ গেল ৩ জনের

বান্দরবানের পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, একই পরিবারের প্রাণ গেল ৩ জনের

আপডেট: ০১:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় এক দম্পতি রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকার আরেকটি স্থানে দ্বিতীয় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একটি একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে এবং মাটিচাপা পড়ে মারা যান স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫)।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। অনেক নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বারবার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো সেখানে যেতে অনাগ্রহী। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায়ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।