০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইমাম স্বামী গ্রেফতার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৯

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে গৃহবধূ আছমা আক্তার (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী মুহাসিন মাতুব্বরকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গ্রেফতার হওয়া মুহাসিন মাতুব্বর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের ওমর আলী মাতুব্বরের ছেলে। তিনি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

পিবিআই জানায়, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম শেখের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আছমা আক্তার, তার স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর এবং তাদের চার বছরের কন্যা মাইশা আক্তার। প্রায় চার মাস ধরে তারা সেখানে বসবাস করছিলেন।

তদন্তে জানা যায়, আছমা আক্তারের পূর্বে দুটি বিয়ে হয়েছিল। বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন রাখাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঘটনার আগের রাতেও এশার নামাজের পর পুরোনো একটি জামা পরাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন স্ত্রীকে মারধর করেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাস্তা প্রস্তুত না থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় তর্ক শুরু হয়। এ সময় আছমা মাথাব্যথার কথা জানালে মুহাসিন তার আগের বিয়ে নিয়ে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন। সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি আছমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গলায় চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি কাঠের পাটাতনের ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত পান এবং মারা যান।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তিনি আছমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে মরদেহ খাটের ওপর শুইয়ে রেখে চার বছরের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে ৭ জুলাই টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই প্রধানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৭ জুলাই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

বান্দরবানের পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, একই পরিবারের প্রাণ গেল ৩ জনের

স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইমাম স্বামী গ্রেফতার

আপডেট: ১২:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে গৃহবধূ আছমা আক্তার (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী মুহাসিন মাতুব্বরকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গ্রেফতার হওয়া মুহাসিন মাতুব্বর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের ওমর আলী মাতুব্বরের ছেলে। তিনি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

পিবিআই জানায়, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম শেখের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আছমা আক্তার, তার স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর এবং তাদের চার বছরের কন্যা মাইশা আক্তার। প্রায় চার মাস ধরে তারা সেখানে বসবাস করছিলেন।

তদন্তে জানা যায়, আছমা আক্তারের পূর্বে দুটি বিয়ে হয়েছিল। বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন রাখাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঘটনার আগের রাতেও এশার নামাজের পর পুরোনো একটি জামা পরাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন স্ত্রীকে মারধর করেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাস্তা প্রস্তুত না থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় তর্ক শুরু হয়। এ সময় আছমা মাথাব্যথার কথা জানালে মুহাসিন তার আগের বিয়ে নিয়ে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন। সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি আছমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গলায় চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি কাঠের পাটাতনের ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত পান এবং মারা যান।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তিনি আছমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে মরদেহ খাটের ওপর শুইয়ে রেখে চার বছরের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে ৭ জুলাই টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই প্রধানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৭ জুলাই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।