০১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন আটক স্ত্রী শেফালি বেগম

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আরিফুর রহমান হত্যা মামলায় আটক তার স্ত্রী শেফালি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে স্বামীর মাথায় আঘাত লাগে এবং দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার (৯ জুলাই) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শেফালি বেগম মণিরামপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের মাওলা বক্স বিশ্বাসের মেয়ে এবং নিহত আরিফুর রহমানের স্ত্রী।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শেফালি বেগম জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ছিলেন। প্রায় ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা একই বাড়িতে বসবাস করতেন। সম্প্রতি দুই ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে তিনি উঠে স্বামীকে ধাক্কা দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে খাটের ওপর পড়ে যান।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, পরে সংসারের কাজ শেষ করে বারান্দায় এসে স্বামীকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির অন্য সদস্যদের ডাকেন। তারা এসে জানান, আরিফুর রহমান মারা গেছেন। তার দাবি, মাথায় আঘাত লাগার ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শেফালি বেগমের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা বারান্দায় গিয়ে আরিফুর রহমানকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তার কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় এবং শেফালি বেগমকে আটক করে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে শেফালি বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত

বান্দরবানের পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, একই পরিবারের প্রাণ গেল ৩ জনের

হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন আটক স্ত্রী শেফালি বেগম

আপডেট: ১১:৪৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আরিফুর রহমান হত্যা মামলায় আটক তার স্ত্রী শেফালি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে স্বামীর মাথায় আঘাত লাগে এবং দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার (৯ জুলাই) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শেফালি বেগম মণিরামপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের মাওলা বক্স বিশ্বাসের মেয়ে এবং নিহত আরিফুর রহমানের স্ত্রী।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শেফালি বেগম জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ছিলেন। প্রায় ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা একই বাড়িতে বসবাস করতেন। সম্প্রতি দুই ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে তিনি উঠে স্বামীকে ধাক্কা দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে খাটের ওপর পড়ে যান।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, পরে সংসারের কাজ শেষ করে বারান্দায় এসে স্বামীকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির অন্য সদস্যদের ডাকেন। তারা এসে জানান, আরিফুর রহমান মারা গেছেন। তার দাবি, মাথায় আঘাত লাগার ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শেফালি বেগমের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা বারান্দায় গিয়ে আরিফুর রহমানকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তার কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় এবং শেফালি বেগমকে আটক করে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে শেফালি বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।