বেনাপোল প্রতিনিধি | আলমগীর হোসেন
যশোরের বেনাপোলের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শত শত শিক্ষার্থী। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে যেমন ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, তেমনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে সীমিত কয়েকটি কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ের বারান্দাতেও নিয়মিত ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৯ বছর পুরোনো ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ছাদের পলেস্তারা নিয়মিত খসে পড়ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ ভবনটির কয়েকটি অংশে পাঠদান বন্ধ রেখেছে।
এর ফলে অবশিষ্ট শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে খোলা বারান্দায় বসে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে বৃষ্টি এবং গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রোদ ও গরমের কারণে এসব শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করায় শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষকরা মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন।
একাধিক অভিভাবক জানান, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা প্রতিদিন উদ্বিগ্ন থাকেন। জরাজীর্ণ ভবনের নিচে ক্লাস করতে পাঠাতে ভয় লাগে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা পুরোনো ভবন অপসারণ করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত ভেঙে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ তৈরি এবং আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্রুত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।




















