১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ছাড়াল ১,৭০০

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৫১২

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়েরা প্রদেশে আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরনগরী লা গুয়েরা। সেখানে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা লোহার রড, হাতুড়ি ও গাঁইতির মতো সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। বহু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যদিও সর্বশেষ কম্পনে নতুন কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও মিলেছে আশার আলো। সোমবার ভোরে একটি বিধ্বস্ত ভবনের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাটি উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশা জাগিয়েছে।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বিদ্যুৎকর্মী রুবেন রোহাস জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটে অনেক ক্ষেত্রেই খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে। অন্যদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে থাকা ক্যারোলিন জেরপা বলেন, এখন জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হলেও অন্তত পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করতে চান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা যথেষ্ট দ্রুত পৌঁছায়নি। তবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দাবি করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে একটি বিশেষ কমিশন গঠন এবং গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির নির্মাণের কাজ চলছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়ক জিয়ানলুকা রাম্পোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৫০০ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্থাটি ১০ হাজার মরদেহ বহনের ব্যাগ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জন্য ৩০ কোটি ডলারের বেশি জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে, যা চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ত্রাণ পরিবহনে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং চীনও প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

৫৯ বছরের জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্ক, শ্রেণিকক্ষ সংকটে বেনাপোলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বারান্দায় চলছে পাঠদান

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ছাড়াল ১,৭০০

আপডেট: ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়েরা প্রদেশে আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরনগরী লা গুয়েরা। সেখানে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা লোহার রড, হাতুড়ি ও গাঁইতির মতো সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। বহু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যদিও সর্বশেষ কম্পনে নতুন কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও মিলেছে আশার আলো। সোমবার ভোরে একটি বিধ্বস্ত ভবনের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাটি উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশা জাগিয়েছে।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বিদ্যুৎকর্মী রুবেন রোহাস জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটে অনেক ক্ষেত্রেই খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে। অন্যদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে থাকা ক্যারোলিন জেরপা বলেন, এখন জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হলেও অন্তত পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করতে চান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা যথেষ্ট দ্রুত পৌঁছায়নি। তবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দাবি করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে একটি বিশেষ কমিশন গঠন এবং গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির নির্মাণের কাজ চলছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়ক জিয়ানলুকা রাম্পোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৫০০ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্থাটি ১০ হাজার মরদেহ বহনের ব্যাগ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জন্য ৩০ কোটি ডলারের বেশি জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে, যা চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ত্রাণ পরিবহনে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং চীনও প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।